চায়না ওপেনের সেমিফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে থাকা এক দর্শকের চোখে বল লাগার ঘটনায় টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন রুশ তারকা দানিল মেদভেদেভ। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেইজিংয়ে নোভাক জোকোভিচের বিপক্ষে লড়াই চলাকালীন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। মেদভেদেভের এই বহিষ্কারের ফলে সরাসরি ফাইনালে পৌঁছে গেছেন সার্বিয়ান তারকা জোকোভিচ।

ঘটনাটি ঘটে যখন ম্যাচের প্রথম সেট ৭-৫ গেমে জিতে দ্বিতীয় সেটে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন জোকোভিচ। সেই মুহূর্তে জোকোভিচ ম্যাচ জেতার লক্ষ্যে সার্ভ করছিলেন। তার একটি শটে পয়েন্ট হারানোর পর মেদভেদেভ ক্ষুব্ধ হয়ে বিজ্ঞাপনের বোর্ডে লেগে ফিরে আসা একটি বল র‌্যাকেট দিয়ে সজোরে গ্যালারির দিকে মারেন। দুর্ভাগ্যবশত, বলটি প্রথম সারিতে বসে থাকা এক দর্শকের বাঁ চোখে আঘাত করে।

আহত দর্শককে চোখে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। পরবর্তীতে টুর্নামেন্ট কর্মীরা তাকে দ্রুত গ্যালারি থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেন। মাঠের পরিস্থিতি সামাল দিতে চেয়ার আম্পায়ার এবং টুর্নামেন্ট সুপারভাইজার কোর্টে নেমে আসেন এবং মেদভেদেভের সঙ্গে আলোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পর জোকোভিচের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোর্ট ত্যাগ করেন রুশ তারকা মেদভেদেভ।

পুরো ঘটনায় রীতিমতো হতবাক হয়ে যান নোভাক জোকোভিচ। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আশা করি, ওই ব্যক্তি গুরুতর আঘাত পাননি।” পাশাপাশি মেদভেদেভের জন্য তার খারাপ লাগার কথা জানান জোকোভিচ। তার বিশ্বাস, মেদভেদেভ ইচ্ছা করে দর্শককে আঘাত করতে চাননি। বড় কোনো ম্যাচ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার অনুভূতি কেমন হয়, তা নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে জানেন বলে মন্তব্য করেন জোকোভিচ।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ইউএস ওপেনে একই ধরনের ঘটনায় বহিষ্কৃত হয়েছিলেন খোদ জোকোভিচ। সে সময় তার মারা একটি বল একজন লাইন বিচারকের গলায় লেগেছিল।

এদিকে মঙ্গলবার ফাইনালে জোকোভিচের প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়বেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যালেক্স ডি মিনাউর। অন্য সেমিফাইনাল ম্যাচে ডি মিনাউর ৬-৪, ৩-২ গেমে এগিয়ে থাকা অবস্থায় পোল্যান্ডের হুবার্ট হুরকাচ চোটের কারণে ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ান।