পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় দুধ পান করার পর ১৯ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের দ্রুত দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরের পর উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দুপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অধীনে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে দুধ বিতরণ করা হয়। রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের প্যাকেটজাত দুধ পান করার কিছু সময়ের মধ্যেই চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মনির হোসেনের পেটব্যথা ও মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এর পরপরই আরও তিন থেকে চারজন শিক্ষার্থী একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সময়ের সাথে সাথে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সন্ধ্যার পর আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে তাদের অভিভাবকেরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তবে তারা কিছুটা সুস্থ থাকায় তাদের ভর্তি না করে কেবল পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাসলিমা খাতুন বলেন, ‘সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিংয়ের দুধ দেওয়ার পর তারা দুধ মুখে দিয়ে তিতা লাগছে বলে জানায়। বিষয়টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অবহিত করি। পরে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন এসে নিজে দুধ খেয়ে দেখেন এবং ভালো আছে বলে হেড স্যারকেও খেতে দেন। তাঁর কথাতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণ করা হয়। খাওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে।’

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন মো. মিজানুর রহমান জানান, বেলা তিনটার দিকে প্রথম শিক্ষার্থী মনির হোসেনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে, যাদের অধিকাংশের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। এছাড়া সন্ধ্যার পর আসা আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যে দুধ পান করে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেটির নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। এ ঘটনা তদন্তের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।’

এদিকে এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেওয়া যোগাযোগ নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।