প্রতিদিনের মতো সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক নুর আজম (৫৬)। দিনটি ছিল শিক্ষক দিবস। এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানায় এবং তাঁর হাতে ফুল তুলে দেয়। অত্যন্ত হাসিমুখে সেই ফুল গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তবে সেই আনন্দের মুহূর্তের কিছু সময় পরেই ঘটে যায় এক মর্মান্তিক ঘটনা। বিদ্যালয়ের পাশের একটি দোকানে চা খেতে বসেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।

মৃত নুর আজম মীরগড় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকার্ত পরিবারে স্ত্রী এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়ে গেছেন। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে তিনি মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

নুর আজমের এই আকস্মিক প্রয়াণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সহকর্মীরা জানান, শিক্ষক দিবসের মতো একটি আনন্দময় দিনে এমন শোকাবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে, তা তাঁদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘হেডস্যার (প্রধান শিক্ষক) সকালে স্কুলে আসার পর শিক্ষার্থীরা শিক্ষক দিবস উপলক্ষে তাঁকে ফুল দিয়েছিল। পরে আমরা শ্রেণিকক্ষে চলে যাই। ঠিক ১০টা ২০ মিনিটে খবর পেলাম পাশের দোকান চা খেতে বসে স্যার হঠাৎ করেই বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। এ সময় আমাদের স্কুলের অফিস সহায়ক তাঁকে ইজিবাইকে নিয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। পরে আমরাও গিয়ে দেখি তিনি মারা গেছেন। চোখের সামনে স্যারকে আসতে দেখলাম, মুহূতেই তাঁর এমন চলে যাওয়া কেন জানি বিশ্বাসই করতে পারছি না।’

আরেক সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান জানান, নুর আজম দীর্ঘ সময় ধরে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। আজ রাত ৯টার দিকে মীরগড় এলাকায় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।’

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ওই শিক্ষককে জরুরি বিভাগে আনার পর তাঁর ব্লাড প্রেশার পাওয়া যাচ্ছিল না। শ্বাস–প্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে তাঁর বুকে চাপ দেওয়াসহ সব ধরনের চেষ্টা করা হয়। পরে ইসিজি করে নিশ্চিত হই তিনি মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে (গুরুতর হৃদরোগ) আক্রান্ত হয়েছিলেন।’