কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেলের ভারুয়াখালী ও বাঁকখালী মোহনা থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ববর্তী আদেশ স্থগিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শেষে আজ রোববার এই আদেশ প্রদান করেন চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।

ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (সওজ অংশ) অধীনে ‘মাতারবাড়ী পোর্ট অ্যাকসেস রোড’ নির্মাণের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও–এমআইএল (জেভি)–কে মহেশখালী উপজেলার ঠাকুরতলা ও হামিদারদিয়া মৌজা থেকে মোট ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছিল। গত ২ এপ্রিল কক্সবাজার জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে এই অনুমোদনের কথা জানায়। তবে এই বালু উত্তোলনের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দাখিল করেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর উক্ত রিটের প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদান করেন। আদালতের সেই আদেশে মহেশখালী চ্যানেলের বাঁকখালী ও ভারুয়াখালী মোহনা থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করা থেকে চার মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল আবেদন করে। আজ রোববার চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় আবেদনটি ওঠে এবং শুনানি শেষে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। অন্যদিকে, রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল।

শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, মাতারবাড়ী প্রকল্প গ্রহণের শুরুতেই পরিবেশগত মূল্যায়ন বা অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নির্দিষ্ট কিছু স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে উন্নয়ন কাজ করার কথা ছিল, যা প্রকল্পের মূল নকশায় অন্তর্ভুক্ত। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘তবে নানা সময়ে কিছু ব্যক্তি জনস্বার্থের নাম করে চারটি রিট করে কাজের অগ্রগতি আটকে দেয়। ইতিমধ্যে তা স্থগিত হয়েছে। সর্বশেষ মহেশখালী চ্যানেলের দুটি মোহনা থেকে বালু উত্তোলন না করতে নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বালু উত্তোলন না করতে নিষেধাজ্ঞা দেন। হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত হয়েছে। তার মানে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলন পূর্বক মাতারবাড়ী উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করতে কোনো বাধা থাকল না।’