খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় অত্যন্ত দুর্লভ ও বিপন্ন প্রজাতির একটি হিমালয়ান গন্ধগোকুলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেয় বন বিভাগ। এরপরই বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আজ রোববার সকালে সদর উপজেলার কমলছড়ি ইউনিয়নের কমলছড়ি নতুন পাড়া এলাকায় সরেজমিনে তদন্ত করেন বন কর্মকর্তারা। বীজিতলা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসাইন জানান, এই বিরল প্রাণীটিকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে তারা স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার প্রাণীটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর এটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আমরা জানতে পারি। বিষয়টি নজরে আসার পর আমরা কমলছড়ি নতুন পাড়ায় গিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে যাঁরা শিকারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তাঁদের পাইনি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছে।’

বন্য প্রাণী গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হিমালয়ান সিভিট বা গন্ধগোকুল একটি বিপন্ন প্রাণী। এদের হিমালয়ী বাঘডাশ কিংবা খাটাশ নামেও ডাকা হয়। বিশেষ করে মুখে মুখোশের মতো দাগ থাকার কারণে এদের ‘মুখোশধারী গন্ধগোকুল’ বলা হয়ে থাকে। এই প্রাণীগুলো মূলত নিশাচর এবং স্বভাবগতভাবে লাজুক। তারা রাতের বেলা গাছের ডালে অবস্থান করে ফলমূল, ইঁদুর ও পাখি শিকার করে জীবনধারণ করে। এই বিপন্ন প্রজাতিটি হিমালয় অঞ্চলের দেশ ভুটান, নেপাল, ভারত, বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের চিরসবুজ বনাঞ্চলে পাওয়া যায়। বনের বাস্তুসংস্থান ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই প্রাণীটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসাইন আরও উল্লেখ করেন যে, হিমালয়ান গন্ধগোকুল একটি অত্যন্ত দুর্লভ প্রাণী এবং এটি বাংলাদেশের বন্য প্রাণী আইনের আওতায় একটি সংরক্ষিত প্রজাতি।