গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গরু জবাই করার অপরাধে মো. হোসাইন মিয়া (২০) নামের এক ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে জবাই করা ওই গরুর মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের গেন্দুরাম গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। দণ্ডপ্রাপ্ত হোসাইন মিয়া ওই গ্রামের মোনজিল মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সূত্রে জানা গেছে, গেন্দুরাম গ্রামের খামারি মজনু মিয়ার একটি অসুস্থ বকনা বাছুর জবাই করা হয়। এই খবর পাওয়ার পরপরই প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আহরাব আল আকাশ। অভিযানে গিয়ে অসুস্থ গরু জবাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত হোসাইন মিয়াকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ২৪ ধারায় হোসাইন মিয়াকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে জবাই করা গরুর মাংস জব্দ করে মাটির নিচে পুঁতে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রসিকিউটর এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোজাম্মেল হক জানান, ‘অসুস্থ গরু জবাইয়ের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অসুস্থ পশুর মাংস বিক্রি বা বাজারজাত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই মাংসগুলো জব্দ করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এ অবস্থায় অসুস্থ পশু জবাই ও এর মাংস বাজারজাত রোধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহরাব আল আকাশ বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে আইন অনুযায়ী কসাইকে জরিমানা করা হয়েছে। জবাই করা পশুর মাংসও মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।’