কলকাতার ঐতিহাসিক প্রীতি ম্যাচে প্রথমার্ধ শেষ হতে হতে ভারতের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এস্তেভাও ও পেদ্রোর দুই গোলের পর বিরতিতে স্বাগতিকদের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার এই পরাশক্তি।

শনিবার কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সিনিয়র পর্যায়ে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয় ভারত ও ব্রাজিল। ফিফার বর্তমান র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী সর্বোচ্চ মানের কোনো দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করল ভারত।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল কার্লো আনচেলত্তির দল। তবে প্রথমার্ধের শুরুর দিকে বেশ সংগঠিত রক্ষণভাগ নিয়ে ব্রাজিলকে আটকে রেখেছিল ভারত। সপ্তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সুযোগ পেলেও তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর দুই মিনিট পর কর্নার থেকে মার্কিনিওসের হেডে গোল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বল বাইরে চলে যায়।

শুধুমাত্র রক্ষণ নয়, আক্রমণভাগেও চেষ্টা চালিয়েছিল ভারত। সপ্তম মিনিটে লালেংমাউইয়া ‘আপুইয়া’ রালতের একটি দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে সময়ের সাথে সাথে ব্রাজিলের আক্রমণের চাপ বাড়তে থাকে এবং ২৮ মিনিটে সেই চাপের ফল পায় তারা।

ডান দিক থেকে মাতেউজিনিওর বাড়ানো বলে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন এস্তেভাও। বলটি জালের ওপরের কোণে ঢুকে যাওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এই গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ব্রাজিলিয়ানরা। ভিনিসিয়ুস ও এস্তেভাও ভারতের রক্ষণভাগকে বারবার চাপে ফেলেন।

বিরতির তিন মিনিট আগে ৪২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড পেদ্রো। এস্তেভাওয়ের তৈরি করা আক্রমণ থেকে এই গোলটি আসে, যেখানে ভারতের গোলকিপারের ভুলটি ছিল স্পষ্ট।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথমার্ধে বলের দখল ছিল ব্রাজিলের ৬২ শতাংশ। আনচেলত্তির দল মোট ১১টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে চারটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ভারত মাত্র দুটি শট নিলেও কোনোটিই লক্ষ্যে লাগেনি। প্রথমার্ধের বড় একটি সময় লড়াই করলেও এস্তেভাওয়ের প্রথম গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নেয় ব্রাজিল।