রাজধানীর উত্তরার সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসা থেকে গ্রেপ্তার ১৪ আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এই আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তখন ১৪ আসামিকে তিন দিন এবং ফারজানা (২১) নামের এক আসামিকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
তিন দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার কারাগারে পাঠানো ১৪ আসামি হলেন— মো. ইয়াকুব হোসাইন (২৬), আরাফাত মিয়া (২২), রিফাত হাওলাদার (১৯), হৃদয় হাসান (২১), ফাহিম (১৯), রাজিব হোসেন (২৪), মো. ফিরোজ (২৬), মো. আরিফ (২৮), মো. ওমর ফারুক (২১), আবদুল্লাহ আল আমান (১৯), মো. আবদুল্লাহ আল নোমান (২১), মো. সোহানুর হোসেন শাহীন (২২), মো. হাসিব (১৯) ও মো. হাসিব মিয়া (২৩)।
আদালতে হাজির করার পর উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ১১ জনের জামিনের আবেদন জানালেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরে বরগুনা-২ আসনের সাবেক এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রুমের ভেতর থেকে আসামিদের আটক করে, তবে ২০-২২ জন অজ্ঞাতনামা আসামি কৌশলে পালিয়ে যান।
তল্লাশির সময় টেবিলের ড্রয়ার থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিরা ইউনিয়ন কমিটির পদপ্রার্থী ২০ জনের নাম ও জীবনবৃত্তান্ত লেখা ২০টি পাতা জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা নিজেদের নিষিদ্ধ সংগঠন উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সদস্য বলে স্বীকার করেন। এই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।