বিদেশি মিশন থেকে পালিয়ে যাওয়া জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার চার কর্মকর্তার মধ্যে দুজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকি দুইজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১ অক্টোবর) এনএসআই সূত্রে মুক্তকণ্ঠ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বহিষ্কৃত কর্মকর্তারা হলেন যুগ্ম পরিচালক বদরুল ইসলাম বিদ্যুৎ ও উপপরিচালক আমিনুল হক পলাশ। অন্যদিকে, যুগ্ম পরিচালক নাসির উদ্দিনের ডিজার্শন বা পালানোর অভিযোগে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ফিল্ড অফিসার আশরাফ হোসেনের ক্ষেত্রে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, পালানো চারজনই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। এর মধ্যে একজন শেখ হাসিনার অনলাইন কনফারেন্সে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়েছেন। গত জুলাইয়ে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ফিল্ড অফিসার আশরাফ হোসেন পালিয়ে যান। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নয়াদিল্লি মিশনের উপপরিচালক নাসির, কলকাতা উপহাইকমিশনে কর্মরত বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আমিনুল হক পলাশ এবং দুবাই মিশনের যুগ্ম পরিচালক বদরুল ইসলাম বিদ্যুৎ পালিয়ে যান।
এনএসআইয়ের একাধিক সূত্র জানায়, নয়াদিল্লির কনস্যুলার শাখার আশরাফ সপরিবারে বাংলাদেশে ফিরবেন বলে দেশ ত্যাগ করেন, কিন্তু তিনি গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। তার যুক্তরাষ্ট্র ভিসার জন্য নয়াদিল্লি মিশন থেকে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে, উপপরিচালক নাসিরও যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়েছেন; তিনি দিল্লি থেকে সরাসরি না গিয়ে ঢাকার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। তার ভিসার জন্যও দিল্লির কনস্যুলার শাখা থেকে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল।
অপরদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের সময় কলকাতা উপহাইকমিশনে কর্মরত আমিনুল হক পলাশ লন্ডনে চলে যান। সেখানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পক্ষে সোচ্চার রয়েছেন। গত ৫ আগস্ট লন্ডনে আয়োজিত শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে তিনি অনলাইনে বক্তব্য রাখেন। একই সময়ে দুবাই মিশন থেকে পালিয়ে যাওয়া যুগ্ম পরিচালক বদরুল বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।