বাংলাদেশ ১ : ৬ ইন্দোনেশিয়া

৪৫ মিনিট আগেও এমন কিছু বাংলাদেশের কল্পনায় থাকার কথা নয়। ইন্দোনেশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে। তাই বলে প্রথমার্ধেই ৬ গোল! অবিশ্বাস্য, অভাবনীয়!

রেফারি বিরতির বাঁশি বাজানোর পর যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল বাংলাদেশ দল। সর্বশেষ ১৫ মিনিটের মধ্যেই চার গোল করেছে ইন্দোনেশিয়া। অবশ্য এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ এক গোল শোধও দিতে পেরেছে।

তবে বিরতিতে ম্যাচের স্কোরলাইনটা বাংলাদেশের জন্য ভীষণ অস্বস্তিকর।

ইন্দোনেশিয়ার গোল উৎসব চলছেই। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইন্দোনেশিয়া করল ষষ্ঠ গোল। গোলকিপার মেহেদীর সেভের পর কর্নার পেয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। সেই কর্নার থেকে আসা বলে হেডে গোল করেছেন জাস্টিন হাবনার।

বাংলাদেশ ১ : ৫ ইন্দোনেশিয়া

আবারও ইন্দোনেশিয়ার গোল। ৪২ মিনিটে ৫–১!

এই গোলটিও মিচেল বেকারের। করেছেন হেডে। বাংলাদেশের রক্ষণে রীতিমতো ত্রাসের সৃষ্টি করেছে ইন্দোনেশিয়া। যেন গোলের নেশায় পেয়েছে স্বাগতিকদের।

বাংলাদেশ ১ : ৪ ইন্দোনেশিয়া

গোল করার পর এক মিনিটও স্বস্তিতে থাকতে পারল না বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়া করে ফেলল চতুর্থ গোল। ৩৭তম মিনিটের গোলটি অনেকটা প্রথমটির মতোই। রমনির কাট ব্যাক থেকে পাওয়া বলে বেকারের গোল।

হ্যাটট্রিক হয়ে গেছে বেকারের।

বাংলাদেশ ১ : ৩ ইন্দোনেশিয়া

৩৬তম মিনিটে গোল পেল বাংলাদেশ। শুধু এই ম্যাচেরই নয়, এবারের ফিফা আসিয়ান কাপেই বাংলাদেশের প্রথম গোল। করেছেন শাহরিয়ান ইমন।

বাঁ দিক থেকে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকেছেন সুকি। একেবারে বাইলাইনের কাছে গিয়ে কাট ব্যাক করেছেন গোলমুখে, প্রায় ফাঁকায় থাকা ইমন সামনে ঝাঁপিয়ে হেডে বল জালে পাঠিয়েছেন।

ম্যাচের প্রথম আধা ঘণ্টার কাঁটা কেবল পেরিয়েছে। বাংলাদেশ হজম করে ফেলল তৃতীয় গোলও।

৩১তম মিনিটে ইন্দোনেশিয়াকে তৃতীয় গোল এনে দিয়েছেন রিজকি রিদো।

বাংলাদেশ ০ : ২ ইন্দোনেশিয়া

মনে হচ্ছিল সমতা হয়তো এনেই ফেলবে বাংলাদেশ। শাহরিয়ার ইমন বাঁ দিক দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে বল বাড়িয়েছিলেন ইন্দোনেশিয়ার বক্সে। দৌড়ে ভেতরে ঢোকা শমিত সোম অল্পের জন্য বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ইন্দোনেশিয়ার ডিফেন্ডাররা বল বিপদমুক্ত করে মাঝমাঠে পাঠান।

সেই বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় গোল পেয়ে গেছে ইন্দোনেশিয়া। প্রথম শট প্রতিহতই করেছেন বাংলাদেশ গোলকিপার। আবারও গোলমুখে ফিরলে ব্লক করেন জায়ান আহমেদ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। জটলার মধ্য থেকে বল জালে পাঠিয়েছেন বেকার। ২০ মিনিটে দুই গোল হয়ে গেল ইন্দোনেশিয়ার। দুটি গোলই যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএল লিগ টুতে খেলা ফরোয়ার্ড বেকারের।

বাংলাদেশ ০ : ১ ইন্দোনেশিয়া

ম্যাচের ১১তম মিনিটেই গোল পেয়ে গেল ইন্দোনেশিয়া। ওলে রমনির ব্যাক পাস থেকে পাওয়া বল প্রথম স্পর্শেই জালে পাঠিয়েছেন মিচেল বেকার। বাংলাদেশ গোলকিপার মেহেদী ঝাঁপিয়ে হাতই লাগাতে পেরেছেন শুধু।

বাংলাদেশ ০ : ০ ইন্দোনেশিয়া

ম্যাচের প্রথম পাঁচ মিনিটে বল বেশি দখলে রেখেছে ইন্দোনেশিয়া। বাংলাদেশ গতিতে ভর করে দ্রুত আক্রমণে ওঠার চেস্টা করেছে। অবশ্য এখন পর্যন্ত কোনো দলই বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

দুই দল এখন পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে সাতবার। বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি, সেটিও ১৯৮৫ সালের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে।

ইন্দোনেশিয়া জিতেছে চার ম্যাচে, বাকি দুটিতে ড্র।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের পার্থক্য কম নয়। বাংলাদেশ ১৮২ নম্বরে, ইন্দোনেশিয়া ১১৭।

সিঙ্গাপুর ম্যাচের দল থেকে একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছেন বাংলাদেশ কোচ টমাস ডুলি। শেখ মোরছালিনের জায়গায় ফরোয়ার্ডে জায়গা পেয়েছেন শাহরিয়ার ইমন।

মেহেদী হাসান (গোলকিপার), সাদ উদ্দিন, জিদান ইউসুফ, জায়ান আহমেদ, তারিক কাজী, হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জামাল ভূঁইয়া, রাকিব হোসেন, সুকি ইতোফুসা ও শাহরিয়ার ইমন।

ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের আর পাওয়ার কিছু নেই, হারানোরও নেই! তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে হামজা–জামালদের।

এবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি টমাস ডুলির দল। জাকার্তার গেলোরা বুং কর্ন স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এই ম্যাচের লাইভ ব্লগে আপনাদের স্বাগত।