লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে এক নারী চিকিৎসক আহত হয়েছেন। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন ডা. ফৌজিয়া। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক-কর্মচারী ও রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের বিশ্রামরত ‘ডক্টরস রেস্টরুমে’ এই দুর্ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ডা. ফৌজিয়া রেস্টরুমে ছিলেন। হঠাৎ করে ঘূর্ণায়মান সিলিং ফ্যানটি হুক থেকে খুলে তার ওপর পড়ে। ফ্যানটি সরাসরি মাথায় না লেগে কাঁধে আঘাত করায় তিনি বড় বিপদ থেকে রক্ষা পান। পরে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

এ ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছাদের প্লাস্টার খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও দেয়াল ও ছাদের রড বেরিয়ে এসেছে এবং বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় ফাটল দেখা গেছে। চিকিৎসক ও কর্মচারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনের বিভিন্ন অংশ সংস্কার না করায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অনেকেই এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, চিকিৎসকরাই যদি কর্মস্থলে নিরাপদ না থাকেন, তবে রোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, "চিকিৎসকরা আমাদের জীবন বাঁচাতে দিন-রাত কাজ করেন। তাদের মাথার ওপরের ফ্যানও যদি নিরাপদ না থাকে, তবে তা সত্যিই দুঃখজনক। দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেই হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার করা উচিত।"

আরেক রোগীর স্বজন বলেন, "হাসপাতালে অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। এখানে এসে যেন কেউ নতুন করে দুর্ঘটনার শিকার না হয়। কর্তৃপক্ষ দ্রুত ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো মেরামত করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"

চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সিলিং ফ্যানসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পরীক্ষা করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। ডা. ফৌজিয়া অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। ভবনটি পুরোনো হওয়ায় বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।"

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ, সিলিং ফ্যানের ফিটিং এবং ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।