রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এই নির্দেশ প্রদান করা হয়। দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সাথে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশার নাম এই ঘটনার সাথে জড়িত। তারা এলাকায় ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
হামলার ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও তা বর্তমানে তদন্তাধীন। ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, "তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
উল্লেখ্য, ফেরদৌসী আহমেদের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও অভিযোগ ছিল। ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
১৯৭৪ সাল থেকে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে আসছিল রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি। ব্যাপক ভাঙচুরের পরও বর্তমানে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।