‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর…’। ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় লস অ্যাঞ্জেলসের সাইন্টোলজি চার্চের চ্যাপেল হলে এই গানের সুরে শুরু হয় রবীন্দ্র সাংস্কৃতিক উৎসব। সাদা ও লাল রঙের পোশাক পরে দর্শকরা মিলনায়তনে প্রবেশ করেন, যা বাঙালিয়ানার এক অনন্য ছাপ তুলে ধরে। শিল্পীদের সাজেও ছিল একই রঙের প্রাধান্য।

সন্ধ্যা সাতটায় হলটি দর্শকে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। উপস্থাপক সাথী বড়ুয়া ও আশীষ কুমার ঘোষ মঞ্চে উঠলে সবাই দাঁড়িয়ে পড়েন। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর বিশিষ্ট কবি কাজী মাশরুল হুদার উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল অংশ শুরু হয়। রবীন্দ্রসংগীত পরিষদের আয়োজনে এই তিন ঘণ্টার অনুষ্ঠানে ছিল রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি।

প্রবাসে থাকলেও রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি বাঙালির কাছে অপরিচিত নয়। সেই পরিচিত অনুভূতি ফিরে পেতে দর্শকরা মুগ্ধ হন একের পর এক পরিবেশনার। কখনো গানের সুর, কখনো নৃত্যের ছন্দ, আবার কখনো কবিতার আবৃত্তি—এই বৈচিত্র্যে মনোযোগ হারাতেন না দর্শকরা। পরিচিত কোনো গান শুরু হলে অনেকেই শিল্পীদের সঙ্গে কণ্ঠ মিশিয়ে গান গেয়ে ওঠেন। আবৃত্তির সময় পুরো হলে নেমে আসে গভীর নীরবতা, আর শেষে করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মিলনায়তন।

মঞ্চে বিভিন্ন বয়সের শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি তুলে ধরেন। গানের সাথে নৃত্য মঞ্চকে প্রাণবন্ত করে তোলে, আবার আবৃত্তি তৈরি করে অন্যরকম আবেশ। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রবাসে জন্ম নেওয়া বা বেড়ে ওঠা অনেক শিল্পী গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন, যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তাদের সম্পৃক্ততা তুলে ধরে।

লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে এ ধরনের রবীন্দ্র সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন এই প্রথম। তাই দর্শক-শ্রোতাদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজনের পরিকল্পনা ও সম্পাদনা করেন বিশিষ্ট লেখক অধ্যাপক সুমন বড়ুয়া। সংগীত পরিচালনা করেন শিল্পী রহমান, যিনি সহযোগিতা পান বুবলি বড়ুয়ার কাছ থেকে। নিশু, এসবি শ্রেয়াস, হৃদ্ধী ও সৌম্য অনুষ্ঠান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যন্ত্রসংগীতে ছিলেন জ্যোতি প্রকাশ মিস্ত্রী, আবু হানিফা ও দেবাশীষ বড়ুয়া।

সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরেও দর্শকরা কিছুক্ষণ হলে অবস্থান করেন। শিল্পীদের সাথে কথা বলা, ছবি তোলা এবং পরিচিতজনের সাথে অনুষ্ঠানের মুহূর্ত নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায় অনেককে। শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের শিল্পীদের মুখে হাসি ফুটেছিল সনদ পাওয়ার আনন্দে।

অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তিতে অংশ নেন শিল্পী রহমান, ঊর্মি আতাহার, শায়লা রুমী, বুবলি বড়ুয়া, সাথী বড়ুয়া, স্নিগ্ধা পোদ্দার, আলভিনা ইসলাম, মিলু আচার্য্য, মানিক বড়ুয়া, এসবি শ্রেয়াস, জয়শ্রী বিশ্বাস, তৃপ্তি মজুমদার, হৃদ্ধী বড়ুয়া, প্রহেলিকা মণ্ডল, নয়ন বড়ুয়া, উৎপল বড়ুয়া, স্মৃতি বড়ুয়া, অনামিকা ঘোষ, রিম্পা বড়ুয়া, অথৈ সাহা, সীমা ধর, পারমিতা, মুক্তি বড়ুয়া, সংগীতা বড়ুয়া, অর্চনা বিশ্বাস, শুভ্রা মুখার্জী, দুর্গা, দেবান্তী, গোসালী, পিয়া, মৌমিতা বড়ুয়া, পৃথিলা বড়ুয়া, প্রনুসা বড়ুয়া, আজমি হোসেন স্বর্ণা, আদল হোসেন সরল, জয়শ্রী বড়ুয়া, রিধি বড়ুয়া, ওয়ালিফ সাবিন ওয়াফি, প্রীতিশ বড়ুয়া, অরিন ঘোষ, আবিব আয়েন ওয়ামিক, আরিয়ান বড়ুয়া, আয়ুষ ঘোষ, অতীশ বড়ুয়া, প্রিয়ম মণ্ডল ও সৌমিক বড়ুয়া।