কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলংগী এলাকায় হঠাৎ করে উপড়ে পড়ার কারণে একটি শতবর্ষী বটগাছ পাশের একটি বাড়ির ওপর পড়েছে। এতে বাড়িটির টিনের ঘর ভেঙে যায় এবং এক নারী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এলাকার ১৫০টি পরিবার বিপাকে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জানামতে, ওই এলাকায় একসময় শতবর্ষী শেওড়াগাছ ছিল, যার গোড়ায় পূজা-মানত করা হতো। ১৯৯৮ সালের বন্যায় ওই শেওড়াগাছটি মারা যাওয়ার পর তার গোড়া থেকে জন্ম নেয় একটি বটগাছের চারা। ধীরে ধীরে গাছটি বড় হলেও স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কার্যালয়ের অনুমতি নিয়ে গতকাল বুধবার গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এর আগেই গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎ করে গাছটি উপড়ে পড়ে।
উপড়ে পড়া গাছটি ভ্যানচালক শহীদ শেখের বাড়ির পেছনে পড়ে। এতে বাড়িটির চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যায় এবং বিদ্যুতের তার ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এলাকার মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন থাকেন।
আহত মিনি খাতুন (৫০) জানান, তিনি রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন। মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে মড়মড় শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই বিদ্যুতের তারসহ খুঁটি পড়ে ঘরের চালে। এতে তিনি আহত হন।
ভ্যানচালক শহীদ শেখ বলেন, "আজ সকালেই গাছটি কাটার কথা ছিল। কিন্তু গভীর রাতেই উপড়ে পড়ে তাঁর স্ত্রী আহত হয়েছেন। শোবার ঘর, রান্নাঘরসহ ভাঙে তছনছ হয়ে গেছে।"
আজ দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, সিসি ঢালাইয়ের সড়ক ঘেঁষে ভ্যানচালক শহীদের বাড়ির পেছনে উপড়ে পড়ে আছে বটগাছটি। ১৮ জন শ্রমিক গাছটি কেটে অপসারণের চেষ্টা করছেন। আজ সন্ধ্যা পৌনে সাতটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু না হওয়ায় এলাকার মানুষ বিড়ম্বনায় পড়েন। কারও ফ্রিজের খাবার ও কাঁচা জিনিসপত্র নষ্ট হতে শুরু করেছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকোলি) কুমারখালী কার্যালয়ের আবাসিক প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বটগাছ কাটার কাজ শেষ হলে বিদ্যুতের সংযোগের কাজ শুরু করা হবে।