নেত্রকোনার সদর উপজেলার বনোয়াপাড়া এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে খেলনা ও বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে হাদিস মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এ সময় তাকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নিয়ে যায়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আটক হাদিস মিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বনোয়াপাড়া গ্রামের মো. সাইদুল ইসলাম ও মমতা বেগমের পাঁচ বছরের ছেলে তামিম বাড়ির সামনের খালি জায়গায় অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এ সময় হাদিস মিয়া সেখানে এসে বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও বিস্কুট দেখিয়ে শিশুটির কাছে যান এবং এসবের লোভ দেখিয়ে তামিমকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ঘটনাটি লক্ষ্য করে তামিমের সাথে খেলতে থাকা আরেক শিশু দৌড়ে গিয়ে তার দাদা ও মাকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন এবং হাদিস মিয়াকে তামিমের সাথে দেখতে পান। এরপর পরিবারের সদস্যরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। একপর্যায়ে এলাকাবাসী হাদিস মিয়াকে ঘিরে ধরে আটক করেন এবং মারধর করার পর পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাদিস মিয়াকে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

শিশুটির মা মমতা বেগম বলেন, "আমার ছেলে বাড়ির পাশের খালি জায়গায় আরেক শিশুর সঙ্গে খেলছিল। এ সময় পাশের একটি তিনতলা ভবনের সামনে থেকে ওই ব্যক্তি অনেকগুলো খেলনা ও বিস্কুট দেখিয়ে আমার ছেলেকে লোভ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। অন্য একটি শিশু বিষয়টি দেখতে পেয়ে আমাদের জানায়। পরে আমরা গিয়ে তাকে আটক করি।"

তিনি আরও বলেন, "বাড়ির সামনেও যদি শিশুরা নিরাপদে খেলতে না পারে, তাহলে আমরা সন্তানদের কোথায় রাখব? আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা চাই।"

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, "স্থানীয় জনতা হাদিস মিয়াকে ধরে পুলিশের কাছে দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, তার কিছুটা মানসিক সমস্যা রয়েছে। তবে তামিমের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"