নওগাঁয় বাসচালক ও তাঁর সহকারীকে মারধরের প্রতিবাদে আজ রোববার সকাল সাতটা থেকে আন্তজেলা ও অভ্যন্তরীণ সড়কে বাস চলাচল বন্ধ করেছে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে আন্তজেলা ও অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
জানতে চাইলে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশার চালকের সঙ্গে মহন্ত পরিবহন নামের একটি বাসের চালক ও তাঁর সহকারীর বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে গতকাল দুপুরে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশার চালককেরা বাসচালক রুবেল হোসেন ও তাঁর সহকারীকে মারধর করেন।
রফিকুল ইসলাম জানান, চালক রুবেল হোসেন ও তাঁর সহকারীকে উদ্ধার করে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চালক রুবেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল সন্ধ্যায় তাঁকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘মহন্ত পরিবহনের চালক ও তাঁর সহকারীকে মারধরের প্রতিবাদে শনিবার বিকেল পাঁচটা থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আজ সকাল সাতটা থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তজেলা কয়েকটি সড়কে (নওগাঁ থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়া রুটে) বাস চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। চালক ও তাঁর সহকারীকে মারধরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।’ এ প্রতিবেদন লেখার সময় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে অভ্যন্তরীণ ও কয়েকটি আন্তজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ আছে। এতে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। বাস না পেয়ে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এ ছাড়া যাতায়াতে লাগছে বাড়তি সময়। ব্যয়ও হচ্ছে বেশি।
আজ দুপুরে নওগাঁর বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে নওগাঁ থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে কোনো বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। বাসের পাশাপাশি বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাও ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। বাস ও অটোরিকশা না পেয়ে যাত্রীদের ব্যাটারিচালিত রিকশায় (ইজিবাইক) করে দূরের গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। তবে শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নওগাঁ শহরে কাজ শেষ করে মান্দায় যাবেন রফিকুল। বেলা দুইটার দিকে তিনি বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখেন সব বাস চলচল বন্ধ। রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাস ও সিএনজি চলাচল করছে না। বাধ্য হয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যেতে হবে। নওগাঁ থেকে মান্দার ফেরিঘাটের দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। যেখানে বাসে ৫০ টাকার ভাড়া গুনতে হতো, সেখানে অটোরিকশাচালকেরা চাইছে ১০০ টাকা। মনে হচ্ছে উপায় নাই। এ ভাড়াই দিতে হবে।’ বাসশ্রমিকদের দ্বন্দ্বে মাঝেমধ্যেই সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহার থেকে নওগাঁ আদালতে মামলার হাজিরা দিতে এসেছিলেন আফসার আলী। তিনি বলেন, ‘সকালে সাপাহার বাসস্ট্যান্ড এসে দেখি বাস চলাচল বন্ধ। পরে বাধ্য হয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা করে তিন দফায় নওগাঁ শহরে আসতে হয়েছে। এতে ১২০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা দিতে হয়েছে। সময়ও বেশি লেগেছে। যাওয়ার বেলাতেও একই দুর্ভোগ পোহাতে হবে।’