একদল ‘ব্রেকিং ব্যাড’ দেখেছেন, আরেক দল দেখেননি। প্রিয় সিনেমা–সিরিজের প্রসঙ্গে কথাটা হরহামেশাই বলা হয়। কিন্তু ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর ক্ষেত্রে এটি যেন সত্যিই দুই মেরুর বিভাজন। প্রচারের পর পেরিয়ে গেছে এক যুগের বেশি সময়। তবু সিরিজটি নিয়ে আলোচনা থামেনি। বরং সময় যত গড়িয়েছে, ‘ব্রেকিং ব্যাড’ যেন আরও বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।
তাই নিউইয়র্ক টাইমস যখন চলতি শতকের সেরা ১০০ সিরিজের তালিকা প্রকাশের ঘোষণা দেয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল—শীর্ষে থাকবে কোন সিরিজ? কোন কোন সিরিজ জায়গা করে নেবে এই তালিকায়? অপেক্ষার অবসান হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশ করেছে একুশ শতকের সেরা ১০০ সিরিজের তালিকা। সেখানে এক নম্বরে রয়েছে ভিন্স গিলিগানের ‘ব্রেকিং ব্যাড’।
গত ২৫ বছরে টেলিভিশনের পর্দা যতটা বদলেছে, বিনোদনের আর কোনো মাধ্যম সম্ভবত এত দ্রুত বদলায়নি। একসময় নির্দিষ্ট সময়ে টেলিভিশনের সামনে বসে প্রিয় অনুষ্ঠান দেখাই ছিল নিয়ম। এরপর এল কেবল টেলিভিশনের বিস্তার। তারপর অনলাইন স্ট্রিমিং। এখন দর্শকের হাতের মুঠোয় একই সঙ্গে অসংখ্য দেশের, অসংখ্য ভাষার সিরিজ। সেই দীর্ঘ পরিবর্তনের সময়টাকেই ফিরে দেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস। প্রকাশ করেছে একুশ শতকের সেরা ১০০ টেলিভিশন সিরিজের তালিকা। সেখানে শীর্ষস্থান পেয়েছে ‘ব্রেকিং ব্যাড’।
শুধু ইংরেজি নয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভাষা। নিউইয়র্ক টাইমসের নিয়মে কোনো নির্দিষ্ট ভাষার বাধ্যবাধকতা ছিল না। ফলে ‘স্কুইড গেম’-এর মতো কোরিয়ান সিরিজও তালিকায় এসেছে। ৭২ নম্বরে থাকা সিরিজটি বিশ্বজুড়ে টেলিভিশন ও স্ট্রিমিংয়ের ভাষা বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফরাসি সিরিজ ‘দ্য ব্যুরো’ রয়েছে ৫৪ নম্বরে। জাপানি ঐতিহাসিক সিরিজ ‘শোগুন’ রয়েছে ৮৬ নম্বরে। ‘নরমাল পিপল’-এর মতো আইরিশ-ব্রিটিশ প্রযোজনাও জায়গা পেয়েছে তালিকায়।
কীভাবে তৈরি হলো তালিকা নিউইয়র্ক টাইমসের এবারের আয়োজন ছিল বড় পরিসরের। পত্রিকাটির সঙ্গে কাজ করেছে তাদের তথ্য ও বিশ্লেষণভিত্তিক বিভাগ ‘দ্য আপশট’। টেলিভিশন অঙ্গনের পাঁচ শতাধিক পেশাজীবীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়। তাঁদের প্রত্যেককে একুশ শতকের সেরা সর্বোচ্চ ১০টি সিরিজ বেছে নিতে বলা হয়েছিল।
যোগ্যতার ক্ষেত্রেও ছিল স্পষ্ট নিয়ম। সিরিজটির প্রথম পর্ব প্রচারিত হতে হবে ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে। সিরিজটি যে দেশের বা যে ভাষারই হোক, তাতে কোনো বাধা ছিল না। ড্রামা, কমেডি, তথ্যচিত্র, রিয়েলিটি শো, টক শো, গেম শো—এমনকি ইউটিউব সিরিজও বিবেচনায় ছিল। শর্ত ছিল একটাই—সিরিজটিতে একাধিক পর্ব থাকতে হবে।
তবে শুধু ব্যালটে পাওয়া ভোট গুনেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়নি। ভোট দেওয়ার পর অংশগ্রহণকারীদের দুটি করে এলোমেলোভাবে নির্বাচিত সিরিজের মধ্যে কোনটিকে তাঁরা বেশি পছন্দ করেন, সেটিও বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ভোটের সংখ্যা এবং এসব মুখোমুখি তুলনার তথ্য একত্র করে তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত তালিকা। সব মিলিয়ে ৫১৬ জন ভোটারের পছন্দ থেকে এসেছে ফলাফল।
কেন শীর্ষে ‘ব্রেকিং ব্যাড’ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর গল্প শুরু একজন রসায়ন শিক্ষকের হাত ধরে। ওয়াল্টার হোয়াইট—সংসারী, সাধারণ, কিছুটা হতাশ একজন মানুষ। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবারের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মাদক তৈরির জগতে পা রাখেন তিনি। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যে তাঁকে কোথায় নিয়ে যাবে, শুরুতে ওয়াল্টার নিজেও জানতেন না। ২০০৮ সালে শুরু হয়ে ২০১৩ সালে শেষ হওয়া সিরিজটির পাঁচ মৌসুমজুড়ে দেখা যায় একজন সাধারণ মানুষের ধীরে ধীরে অপরাধজগতের ক্ষমতাবান চরিত্র হয়ে ওঠার গল্প। ওয়াল্টারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রায়ান ক্র্যানস্টন। তাঁর প্রাক্তন ছাত্র জেসি পিংকম্যানের চরিত্রে অ্যারন পল।
শুরুতে দর্শক ওয়াল্টারকে দেখেন একজন অসুস্থ, আতঙ্কিত ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক হিসেবে। তাঁর সিদ্ধান্তকে বোঝা যায়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি সহানুভূতিও তৈরি হয়। কিন্তু গল্প যত এগোয়, সেই সহানুভূতির জায়গা দখল করে অস্বস্তি। কারণ, ওয়াল্টার শুধু পরিস্থিতির শিকার থাকেন না; ধীরে ধীরে তিনিই পরিস্থিতি তৈরি করতে শুরু করেন।
নতুনদেরও জায়গা সাম্প্রতিক সিরিজের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া ‘অ্যাডোলেসেন্স’ রয়েছে ৪০ নম্বরে। একই বছরে শুরু হওয়া হাসপাতালভিত্তিক সিরিজ ‘দ্য পিট’ ৩৬ নম্বরে। ২০২৪ সালের ‘বেবি রেইনডিয়ার’ রয়েছে ৮৯ নম্বরে। ‘শোগান’ রয়েছে ৮৬ নম্বরে।
ওয়াল্টার হোয়াইটের সেই অন্ধকার রূপের নাম ‘হাইজেনবার্গ’। শুরুতে পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জনের অজুহাতে মাদক ব্যবসায় নামা মানুষটি ধীরে ধীরে অর্থ, ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের নেশায় এমন জায়গায় পৌঁছান, যেখান থেকে ফিরে আসার পথ প্রায় বন্ধ। তাঁর সবচেয়ে বড় সংঘাত শেষ পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে নয়, নিজের সঙ্গেই।
‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর আরেকটি বড় শক্তি ছিল এর নির্মাণশৈলী। গল্প বলার জন্য শুধু বড় ঘটনা বা চমক ব্যবহার করেনি সিরিজটি। দর্শককে সবকিছু বলে দেওয়ার বদলে অপেক্ষা করিয়েছে, সন্দেহে রেখেছে, তারপর ধীরে ধীরে ‘বিপদের দিকে’ ঠেলে দিয়েছে।
সিরিজটি শেষ হওয়ার পরও তার প্রভাব শেষ হয়নি। ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর উত্তরাধিকারও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সিরিজটির অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র সল গুডম্যানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ‘বেটার কল সল’। সেই সিরিজও নিউইয়র্ক টাইমসের তালিকায় জায়গা পেয়েছে—২৭ নম্বরে। অর্থাৎ একটি সিরিজ শুধু নিজেই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তার চরিত্র ও জগৎ থেকে তৈরি আরেকটি সিরিজও দুই দশকের সেরা কাজের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
‘দ্য ওয়্যার’ দুই নম্বরে রয়েছে ডেভিড সাইমনের ‘দ্য ওয়্যার’। ২০০২ সালে শুরু হয়ে ২০০৮ সালে শেষ হওয়া সিরিজটি বাল্টিমোর শহরের অপরাধ ও সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে তৈরি। তবে ‘দ্য ওয়্যার’কে শুধু পুলিশ ও অপরাধীর গল্প বললে ভুল হবে। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি পুলিশ বিভাগ, রাজনীতি, শিক্ষা, সংবাদমাধ্যম এবং শহরের সাধারণ মানুষের জীবন—সবই এর গল্পের অংশ।
এই সিরিজে খুব সহজে কাউকে নায়ক বা খলনায়ক বানানো হয়নি। পুলিশ কেন ব্যর্থ হয়, অপরাধীরা কেন অপরাধের জগতে থেকে যায়, রাজনীতি কীভাবে প্রশাসনকে প্রভাবিত করে, সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব সংকট কোথায়—এসব প্রশ্নের ভেতর দিয়ে এগিয়েছে গল্প। এই জটিল সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিই ‘দ্য ওয়্যার’-কে সাধারণ ক্রাইম ড্রামা থেকে আলাদা করেছে।
‘ম্যাড মেন’ তৃতীয় স্থানে রয়েছে ম্যাথিউ ওয়াইনারের ‘ম্যাড মেন’। ২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রচারিত এই সিরিজের গল্প ষাটের দশকের নিউইয়র্কের বিজ্ঞাপনজগৎকে ঘিরে। কেন্দ্রীয় চরিত্র ডন ড্রেপার। বাইরে থেকে তিনি সফল বিজ্ঞাপন কর্মকর্তা। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, পরিচয়, বিবাহ, সম্পর্ক ও অতীতের মধ্যে রয়েছে গভীর দ্বন্দ্ব। ‘ম্যাড মেন’ বিজ্ঞাপনী সংস্থার গল্প হলেও এর পরিসর অনেক বড়। ষাটের দশকের আমেরিকান সমাজে নারীর অবস্থান, পরিবার, ভোগবাদ, পুরুষতন্ত্র, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক পরিবর্তন—সবই গল্পে উঠে এসেছে। জন হ্যামের ডন ড্রেপার চরিত্রটি টেলিভিশনের অন্যতম স্মরণীয় চরিত্র হয়ে আছে।
শীর্ষ ১০-এ ড্রামা ও কমেডির সমান উপস্থিতি তালিকার শীর্ষ ১০ দেখলে আরেকটি বিষয় চোখে পড়ে। এখানে ড্রামা ও কমেডির সংখ্যা সমান—পাঁচটি করে। ড্রামা: ‘ব্রেকিং ব্যাড’, ‘দ্য ওয়্যার’, ‘ম্যাড মেন’, ‘সাকসেশন’ ও ‘গেম অব থ্রোনস’। কমেডি: ‘ফ্লিব্যাগ’, ‘ভিপ’, ‘৩০ রক’, ‘কার্ব ইয়োর এনথুজিয়াজম’ ও ‘আটলান্টা’।
‘সাকসেশন’ ধনী পরিবার মানেই সুখী পরিবার নয়—‘সাকসেশন’ যেন এই কথাটিই নতুন করে বলেছে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া সিরিজটির কেন্দ্রে মিডিয়া সাম্রাজ্যের মালিক লোগান রয় ও তাঁর সন্তানেরা। বাবার তৈরি বিশাল ব্যবসার উত্তরাধিকার কে পাবেন, তা নিয়েই শুরু হয় ক্ষমতার লড়াই।
কিন্তু ব্যবসার লড়াইয়ের আড়ালে আরও বড় গল্পটি হলো পরিবারের ভেতরের সম্পর্ক। বাবার স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, ভাই–বোনের প্রতিযোগিতা, অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব—সবকিছু মিলে সিরিজটি হয়ে উঠেছে এক অস্বস্তিকর পারিবারিক ড্রামা। ২০২৩ সালে শেষ হওয়া সিরিজটি রয়েছে চার নম্বরে।
‘ফ্লিব্যাগ’ শীর্ষ পাঁচে জায়গা পাওয়া ‘ফ্লিব্যাগ’ একেবারেই ভিন্ন ধরনের সিরিজ। ফিবি ওয়ালার-ব্রিজের তৈরি ও অভিনীত ব্রিটিশ এই সিরিজের মাত্র দুই মৌসুম। বাইরে থেকে এটি কমেডি। কিন্তু হাসির নিচে রয়েছে শোক, একাকিত্ব, সম্পর্কের সংকট, অপরাধবোধ ও মানসিক টানাপোড়েন।
কেন্দ্রীয় চরিত্রটি মাঝেমধ্যে সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ফলে দর্শক যেন তার ব্যক্তিগত জগতে ঢুকে পড়েন। এই কৌশলই সিরিজটিকে অন্য অনেক কাজের চেয়ে আলাদা করে দিয়েছে। ২০১৬ সালে শুরু হয়ে ২০১৯ সালে শেষ হওয়া ‘ফ্লিব্যাগ’ শীর্ষ পাঁচে থাকা সবচেয়ে ছোট পরিসরের সিরিজগুলোর একটি। ব্রিটিশ সিরিজগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে ওপরে।
‘গেম অব থ্রোনস’ একুশ শতকের সবচেয়ে বড় টেলিভিশন ঘটনাগুলোর একটি ‘গেম অব থ্রোনস’। ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আট মৌসুমে প্রচারিত সিরিজটি জর্জ আর আর মার্টিনের ‘আ সং অব আইস অ্যান্ড ফায়ার’ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি। ওয়েস্টেরসের ক্ষমতার লড়াই, বিভিন্ন পরিবারের সংঘাত, ষড়যন্ত্র, যুদ্ধ, ড্রাগন এবং হোয়াইট ওয়াকার—সবকিছু মিলিয়ে সিরিজটি টেলিভিশনের পরিসরকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়। বিশ্বজুড়ে বিপুল দর্শক তৈরি করেছিল সিরিজটি। নিউইয়র্ক টাইমসের তালিকায় এর অবস্থান ছয়।
‘ ভিপ ’ রাজনীতিকে এতটা ধারালোভাবে খুব কম সিরিজই দেখিয়েছে। সাত নম্বরে থাকা ‘ভিপ’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র সেলিনা মেয়ার। জুলিয়া লুই-ড্রেফাসের অভিনয়ে চরিত্রটি হয়ে উঠেছে টেলিভিশনের স্মরণীয় রাজনৈতিক কমেডি চরিত্রগুলোর একটি। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা মানুষের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভুল সিদ্ধান্ত, নিজেদের অবস্থান বাঁচানোর চেষ্টা এবং রাজনৈতিক কৌশল—সবকিছুকেই ব্যঙ্গ করেছে সিরিজটি।
২০০০-এর দশক, ২০১০-এর দশক না ২০২০-এর দশক? তালিকাটি আরেকটি মজার পরিবর্তনের ছবি তুলে ধরে। ২০০০ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে প্রথম প্রচারিত সিরিজ আছে ৩২টি। ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের সিরিজ ৪৫টি। আর ২০২০ সালের পর শুরু হওয়া সিরিজ আছে ২৩টি।
‘৩০ রক’ টিনা ফের ‘৩০ রক’ টেলিভিশনের ভেতরের টেলিভিশনের গল্প। একটি কাল্পনিক কমেডি অনুষ্ঠান তৈরির নেপথ্যে থাকা কর্মীদের জীবন নিয়ে নির্মিত সিরিজটিতে টিনা ফে নিজেই অভিনয় করেছেন। অ্যালেক বাল্ডউইন, ট্রেসি মরগানসহ তারকাদের অভিনয়, দ্রুতগতির সংলাপ এবং টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ে অসংখ্য ব্যঙ্গ সিরিজটির বৈশিষ্ট্য। ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রচারিত ‘৩০ রক’ তালিকায় আট নম্বরে।
‘কার্ব ইয়োর এনথুজিয়াজম’ ল্যারি ডেভিডের তৈরি ‘কার্ব ইয়োর এনথুজিয়াজম’ ২০০০ সালে শুরু হয়ে ২০২৪ সালে শেষ হয়। সিরিজটিতে ল্যারি ডেভিডেরই একটি কাল্পনিক সংস্করণকে দেখা যায়। সামাজিক জীবনের ছোটখাটো নিয়ম, ভুল–বোঝাবুঝি, অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ও মানুষের আচরণকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় হাসির মুহূর্ত। সিরিজটির বড় বৈশিষ্ট্য ছিল এর স্বাভাবিক সংলাপ ও ইম্প্রোভাইজেশনের ব্যবহার। দীর্ঘ ২৪ বছরের যাত্রা শেষে এটি জায়গা করে নিয়েছে নয় নম্বরে।
‘আটলান্টা’ শীর্ষ ১০ শেষ হয়েছে ডোনাল্ড গ্লোভারের ‘আটলান্টা’ দিয়ে। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রচারিত সিরিজটির গল্প দুই কাজিনকে ঘিরে। সংগীতজগতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বর্ণপরিচয় ও সম্পর্কের নানা স্তর উঠে এসেছে এতে। কখনো কমেডি, কখনো সামাজিক ব্যঙ্গ, কখনো পরাবাস্তব—‘আটলান্টা’ একেক পর্বে একেক ধরনের গল্প বলার কৌশল ব্যবহার করেছে। এই পরীক্ষাধর্মী নির্মাণই সিরিজটিকে সমকালীন টেলিভিশনের অন্য অনেক কাজ থেকে আলাদা করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের সেরা ১০০ সিরিজ ১. ‘ব্রেকিং ব্যাড’ ২. ‘দ্য ওয়্যার’ ৩. ‘ম্যাড মেন’ ৪. ‘সাকসেশন’ ৫. ‘ফ্লিব্যাগ’ ৬. ‘গেম অব থ্রোনস’ ৭. ‘ভিপ’ ৮. ‘৩০ রক’ ৯. ‘কার্ব ইয়োর এনথুজিয়াজম’ ১০. ‘আটলান্টা’ ১১. ‘দ্য অফিস’ (যুক্তরাষ্ট্র) ১২. ‘অ্যারেস্টেড ডেভেলপমেন্ট’ ১৩. ‘গার্লস’ ১৪. ‘ফ্রাইডে নাইট লাইটস’ ১৫. ‘সিক্স ফিট আন্ডার’ ১৬. ‘দ্য অফিস’ (যুক্তরাজ্য) ১৭. ‘দ্য আমেরিকানস’ ১৮. ‘আই মে ডেস্ট্রয় ইউ’ ১৯. ‘চেরনোবিল’ ২০. ‘দ্য ক্রাউন’ ২১. ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ ২২. ‘লস্ট’ ২৩. ‘দ্য কামব্যাক’ ২৪. ‘ডেডউড’ ২৫. ‘দ্য লেফটওভারস’ ২৬. ‘ব্ল্যাক মিরর’ ২৭. ‘বেটার কল সল’ ২৮. ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’ ২৯. ‘কি অ্যান্ড পিল’ ৩০. ‘সেভারেন্স’ ৩১. ‘সারভাইভার’ ৩২. ‘অ্যান্ডর’ ৩৩. ‘এনলাইটেন্ড’ ৩৪. ‘শিটস ক্রিক’ ৩৫. ‘ট্রু ডিটেকটিভ’ (প্রথম মৌসুম) ৩৬. ‘দ্য পিট’ ৩৭. ‘ব্যাটলস্টার গ্যালাকটিকা’ ৩৮. ‘হোমল্যান্ড’ ৩৯. ‘ওয়াচমেন’ ৪০. ‘অ্যাডোলেসেন্স’ ৪১. ‘লুই’ ৪২. ‘হ্যাকস’ ৪৩. ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’ ৪৪. ‘বোজ্যাক হর্সম্যান’ ৪৫. ‘হ্যাপি ভ্যালি’ ৪৬. ‘ব্রড সিটি’ ৪৭. ‘টুইন পিকস: দ্য রিটার্ন’ ৪৮. ‘হাউস অব কার্ডস’ ৪৯. ‘নরমাল পিপল’ ৫০. ‘পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন’ ৫১. ‘দ্য গুড প্লেস’ ৫২. ‘ডাউনটন অ্যাবি’ ৫৩. ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ ৫৪. ‘দ্য ব্যুরো’ ৫৫. ‘ইনসিকিউর’ ৫৬. ‘নাথান ফর ইউ’ ৫৭. ‘আই থিংক ইউ শুড লিভ’ ৫৮. ‘শ্যাপেলস শো’ ৫৯. ‘পেন১৫’ ৬০. ‘পিপ শো’ ৬১. ‘রুপলস ড্র্যাগ রেস’ ৬২. ‘স্লো হর্সেস’ ৬৩. ‘দ্য থিক অব ইট’ ৬৪. ‘অ্যান্থনি বোর্দেইন: পার্টস আননোন’ ৬৫. ‘মেয়ার অব ইস্টটাউন’ ৬৬. ‘দ্য রিহার্সাল’ ৬৭. ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’ ৬৮. ‘ওজার্ক’ ৬৯. ‘অ্যান্থনি বোর্দেইন: নো রিজারভেশনস’ ৭০. ‘দ্য শিল্ড’ ৭১. ‘বিফ’ (প্রথম মৌসুম) ৭২. ‘স্কুইড গেম’ ৭৩. ‘ব্যারি’ ৭৪. ‘দ্য বিয়ার’ ৭৫. ‘টেড ল্যাসো’ ৭৬. ‘সামবডি সামহয়ার’ ৭৭. ‘মডার্ন ফ্যামিলি’ ৭৮. ‘ইটস অলওয়েজ সানি ইন ফিলাডেলফিয়া’ ৭৯. ‘দ্য গুড ওয়াইফ’ ৮০. ‘হাউ টু উইথ জন উইলসন’ ৮১. ‘দ্য কুইন্স গ্যামবিট’ ৮২. ‘বেটার থিংস’ ৮৩. ‘জাস্টিফায়েড’ ৮৪. ‘প্ল্যানেট আর্থ’ ৮৫. ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ’ ৮৬. ‘শোগান’ ৮৭. ‘রিজারভেশন ডগস’ ৮৮. ‘ডেক্সটার’ ৮৯. ‘বেবি রেইনডিয়ার’ ৯০. ‘ইস্টবাউন্ড অ্যান্ড ডাউন’ ৯১. ‘ক্যাটাস্ট্রফি’ ৯২. ‘দ্য নাইট অব’ ৯৩. ‘স্টেশন ইলেভেন’ ৯৪. ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ ৯৫. ‘হাউস’ ৯৬. ‘হল্ট অ্যান্ড ক্যাচ ফায়ার’ ৯৭. ‘কমিউনিটি’ ৯৮. ‘দ্য ওএ’ ৯৯. ‘গিলমোর গার্লস’ ১০০. ‘স্ক্যান্ডাল’