রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, একটি স্টুডিওসহ তিনটি স্থানে দুই দিনে ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে ‘মবতন্ত্র’ কায়েমের কথা বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

আজ রোববার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন শেষে আসিফ মাহমুদের বক্তব্যের পর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে টাঙানো ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ’ নামের একটি বিলবোর্ড উপড়ে ফেলেছেন এনসিপির নেতা–কর্মীরা।

রাড্ডা সেন্টার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। এ সময় তাঁর সঙ্গে এনসিপির বেশ কয়েকজন নেতা–কর্মী ছিলেন। এনসিপির মুখপাত্র আরও বলেন, একই এলাকায় দুই দিনের মধ্যে তিনটি জায়গায় ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। অথচ সরকার বলেছিল, বাংলাদেশে মবতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছে।

তবে মবের শিকার তৃতীয় স্থানটির নাম আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট করে বলেননি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে তাঁরা রাড্ডা সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর জানতে পারেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, ওষুধ ও চিকিৎসার বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে নেওয়া হয়েছে। এমনকি দরিদ্র শিশুদের জন্য রাখা টিকাও লুট করা হয়েছে। দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবার জায়গায় এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জার।

এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, শুধু এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নয়, একই এলাকায় আরও দুটি জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি স্টুডিওতে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। দুই দিনের মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

পুলিশ মবতন্ত্র কায়েমের নিরাপত্তা দিয়েছে

আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে পুলিশ সদস্যদের সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সেখানে একটি এক্সক্যাভেটরও আনা হয়েছিল। কোনো স্থাপনা ভাঙার অনুমতি আছে কি না, তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু ভাঙচুর শুরু হলে পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়।

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ঢাকায় বাড়ি নির্মাণকাজের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অনুমতির প্রয়োজন হয়। অথচ এখানে এক্সক্যাভেটর এনে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা দেখে মনে হয়েছে, পুলিশ যেন মবতন্ত্র কায়েমের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ঘটনা ঘটার সময় পুলিশ সেখানে ছিল না। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।

আসিফ মাহমুদ বলেন, এসব ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। যারা ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত এবং যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজে যেসব পুলিশ সদস্যকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এনসিপির এই মুখপাত্র অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে বিএনপির একজন সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের একজন কাউন্সিলর এবং স্থানীয় পুলিশের সদস্যরা সংগঠিতভাবে জড়িত। তিনি ঘটনাটিকে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত লুটপাট’ বলে উল্লেখ করেন।

আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, দ্রুত বিচার ও ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তাঁরা ধরে নেবেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।

ঘটনাস্থলের পেছনে একটি সমবায় সমিতির বিলবোর্ড রয়েছে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁরা শুনেছেন, ওই সমবায় সমিতির প্রধান একজন সংসদ সদস্য। তাঁর নেতৃত্বে ঘটনাটি ঘটেছে। এ অভিযোগেরও তদন্ত করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনর্নির্মাণের দাবি

ভাঙচুরে ক্ষয়ক্ষতির জন্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, সঠিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভবনটি পুনর্নির্মাণ করে সেখানে আবার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করতে হবে।

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে পাশের একটি মার্কেটের গলিতে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। বাবা-মায়েরা কষ্ট করে সন্তানদের সেখানে নিয়ে আসছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরাও গরমের মধ্যে গলিতে বসে টিকাদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এ ধরনের অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা চলতে থাকলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে।

বিলবোর্ড উপড়ে ফেললেন এনসিপির নেতা–কর্মীরা

সংবাদ ব্রিফিং শেষে এনসিপির নেতা–কর্মীরা ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ’ নামের বিলবোর্ডটি উপড়ে ফেলেন। এ সময় তাঁরা ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ এবং ‘মবতন্ত্রের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।