আধুনিক জীবনে ঘরে ইন্টারনেট সংযোগের সাথে ওয়াই-ফাই রাউটার থাকা একান্ত প্রয়োজন। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে স্মার্ট টিভিসহ বিভিন্ন ডিভাইস এই রাউটারের ওপর নির্ভরশীল। অনেকেই সুবিধার্থে রাউটারটি ২৪ ঘণ্টা চালু রেখে দেন। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, মাস শেষে এর কারণে বিদ্যুৎ বিলে কতটা বৃদ্ধি পায়?
বাংলাদেশে একটি পূর্ণ মাস ধরে রাউটার চালু রাখলে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়, তা সহজ গণিতের মাধ্যমে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
রাউটারের বিদ্যুৎ ব্যবহার:
সাধারণত বাড়িতে ব্যবহৃত ওয়াই-ফাই রাউটারগুলো ৯ থেকে ১২ ভোল্টে চলে এবং এগুলো ০.৬০ থেকে ১ অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ গ্রহণ করে। ধরা যাক, আপনার রাউটারটির ক্ষমতা ৯ ভোল্ট এবং ০.৬০ অ্যাম্পিয়ার।
এক্ষেত্রে পাওয়ার ব্যবহার হবে: ৯ × ০.৬০ = ৫.৪ ওয়াট।
এটিকে কিলোওয়াট-ঘণ্টায় (KWh) রূপান্তর করলে দাঁড়ায় ০.০০৫৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। অর্থাৎ, এক ঘণ্টায় রাউটারটি খরচ করে মাত্র ০.০০৫৪ ইউনিট বিদ্যুৎ।
খরচের হিসাব:
বাংলাদেশে আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল ব্যবহারের হারের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। একটি সাধারণ পরিবারের জন্য গড় বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৮.৫০ টাকা ধরে হিসাব করলে দেখা যায়:
১ ঘণ্টায় খরচ: ০.০০৫৪ × ৮.৫০ = প্রায় ০.০৪৬ টাকা (৪.৬ পয়সা)
২৪ ঘণ্টায় বা ১ দিনে খরচ: ০.০৪৬ × ২৪ = প্রায় ১.১১ টাকা
৩০ দিনে বা ১ মাসে খরচ: ১.১১ × ৩০ = প্রায় ৩৩.৩ টাকা
বিলের সাথে ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হলেও মোট খরচ সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৩৬ টাকার মধ্যেই থাকবে। আর যদি রাউটারটি ১২ ওয়াটেরও বেশি ক্ষমতার হয়, তবুও মাসে খরচ হবে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।
সারকথা:
রাউটার যদি মাসজুড়ে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয়, তবুও মাসিক বিদ্যুৎ বিল মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মতো বাড়তে পারে। তাই ওয়াই-ফাই রাউটার সারাদিন চালু রাখা নিয়ে বিদ্যুৎ বিলের দিক থেকে চিন্তার কোনো কারণ নেই। নিশ্চিন্তে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন।