পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চুরির অভিযোগ তুলে ১২ বছর বয়সী এক শিশু ও তার মাকে বেধড়ক পিটিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান (চুন্নু) ও তাঁর ছোট ভাই আবদুল হাই। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর হাফিজুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। দেড় বছর আগে তাঁর বাবা মারা যায়। জমি বন্ধকের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে চুরির অভিযোগ তুলে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মারধরের পর স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে গতকাল মঙ্গলবার সকালে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দুজনেরই শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। শরীরের যেসব স্থানে আঘাত করা হয়েছে, সেসব জায়গায় কালো দাগ হয়ে গেছে। তাঁরা তাঁদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়েছেন।

আজ বুধবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী মা ও ছেলের সঙ্গে কথা হয়। ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, মৃত্যুর আগে তাঁর স্বামী বিএনপি নেতার ভাই আবদুল হাইয়ের জমি বন্ধক রেখে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা লেনদেনের কোনো লিখিত কাগজ ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পর ওই কাগজ নিতে তিনি কয়েকবার আবদুল হাইয়ের কাছে যান। এ নিয়ে বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান ও তাঁর ভাই আবদুল হাই তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

ওই নারী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, গত শুক্রবার হাফিজুর ও তাঁর ভাই আবদুল হাই তাঁদের মা ও ছেলেকে বাড়িতে ডেকে পাঠান। এ সময় ছেলে তাঁদের ঘর থেকে মানিব্যাগ চুরি করেছে বলে অভিযোগ করেন। এরপর বাঁশের লাঠি দিয়ে ছেলেকে পেটাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে আবদুল হাইসহ বাড়ির অন্য সদস্যরা মিলে মারধর করেন। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ওই ছেলে চোর। সে এলাকার সব জায়গায় চুরি করে বেড়ায়। ছেলেটি চুরি করার পর আমি পুলিশকে বলেছি। তারা বলেছে, “দুই একটা পিডান-পুডান দিয়ে ছেড়ে দেন।”’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। কারা করেছে, তাদের কথা আমি পরে বলব।’

জমি বন্ধক দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতার ছোট ভাই আবদুল হাই। মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও হাফিজুর রহমানের মতো একই ধরনের মন্তব্য করেন।

যোগাযোগ করলে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এ রকম কোনো বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি। আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।’

এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপি। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান (টোটন) স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিশু ও তার মায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত ভিডিও দৃষ্টিগোচর হওয়ার কথা উল্লেখ করে কেন তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার লিখিত জবাব আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে দিতে বলা হয়েছে।