বগুড়ার শেরপুরের মহিপুর কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ডেকে নিয়ে ৯ জন শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে পাশের উপজেলার একটি গুদামে আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কয়েকজন কিশোর শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করে বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকার একটি মুরগির খামারের গুদাম থেকে তাদের উদ্ধার করেন অভিভাবকেরা।
গতকাল সোমবার এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাতেই ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও পাঁচজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অন্তত ৫০ জন অভিভাবক। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যালয় চলাকালীন শিক্ষার্থীরা কীভাবে বাইরে চলে গেল, তা শিক্ষকদের নজরে আসেনি। তাঁরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্জুয়ারা পারভীন জানান, গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার সমাবেশে ওই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আটজন উপস্থিত ছিল। তবে চতুর্থ ঘণ্টার ক্লাসে তাঁদের অনুপস্থিত দেখা যায়, যদিও শ্রেণিকক্ষে তাঁদের বইয়ের ব্যাগ পড়ে ছিল। বিদ্যালয়ের আশপাশে খোঁজ করেও তাঁদের সন্ধান না পেয়ে বিকেল তিনটার দিকে অভিভাবকদের জানানো হয়।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সিয়াম জানান, এলাকার এক ভাই (১৭) তাকে একশ টাকা দেওয়ার কথা বলে স্কুল থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ইজিবাইকে করে তাদের গ্রামের পশ্চিম পাশে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ওই কিশোরের সঙ্গে আরও দুজন যোগ দেয়। এরপর তাদের শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল বাজারের উত্তর পাশে একটি মুরগির খামারের গুদামে নিয়ে গিয়ে শাটার বন্ধ করে আটকে রাখা হয়। সেখান থেকে বের হতে চাইলে তাদের মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয় বলে সিয়াম জানান।
গুদমঘরে আটকে থাকা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবদুল হান্নান ও রিফাত হাসান জানান, টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে তারা দুজন কৌশলে গুদাম থেকে বের হয়ে গাড়িতে করে মহিপুর বাজারে আসেন। সেখানে তারা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানান। এরপর অভিভাবকেরা ওই গুদামে গিয়ে বাকি শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন। অভিভাবকদের দাবি, এ সময় জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঘটনার কথা জানতে পেরেছেন বলে জানান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তিনি বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এক শিক্ষার্থীর বাবা লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই পাঁচজনের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।