সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির সাথে পরিবহন ভাড়া সমন্বয় করার একটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে। তিনি জানান, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খাতের ব্যয় বেড়ে যায়। পাশাপাশি ডলারের দাম বাড়ায় যানবাহনের যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পরিবহন মালিকদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শেষে সংবাদদাতাদের কাছে এসব তথ্য জানান তিনি।
সেতুমন্ত্রী বলেন, "পরিবহন খাতে প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি লিটার জ্বালানির দাম ১ টাকা বাড়লে ভাড়া ১ পয়সা বাড়ানোর যৌক্তিকতা রয়েছে। অতীতেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আগের দফায় প্রতি লিটার জ্বালানির দাম ১৫ টাকা বাড়লেও পরিবহন মালিকদের ১৫ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির দাবির বিপরীতে ১১ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট পক্ষ এ সিদ্ধান্তে সম্মত হয়েছিল বলে জানান তিনি। এবার প্রতি লিটার জ্বালানির দাম ২০ টাকা বাড়ায় প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী ২০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি করা হয়। একই সঙ্গে পরিবহন মালিকরা রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানান। ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক সামগ্রীর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।"
সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ভাড়ার চাপ কমানোর বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, "বৈশ্বিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট, জ্বালানির প্রাপ্যতা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সবকিছু বিবেচনা করেই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।"
পরিবহন খাতের ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বৃদ্ধির বাস্তবতা অস্বীকার করা যায় না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক সামগ্রীর দাম বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশেও বেড়েছে।