বছরের এই সময়ে ডেঙ্গু মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভবিষ্যতে এর প্রাদুর্ভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ ভাইরাসজনিত রোগ থেকে ডেঙ্গু আলাদা, কারণ এটি অনেকের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে। প্রতিদিন সংবাদপত্রে ডেঙ্গুজনিত জটিলতায় মৃত্যুর খবর আসছে, যেখানে শিশু থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ সব বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারীও অন্তর্ভুক্ত।
অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এখানে একজন নয়, দুজন মানুষের স্বাস্থ্যের ব্যাপার জড়িত। গর্ভাবস্থায় নারীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়, ফলে রোগ জটিল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। শরীরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুর জটিলতা চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু হলে রক্তের অণুচক্রিকা বা রক্তচাপ কমে গেলে প্রসবকালীন রক্তক্ষরণ, অকালজন্ম বা গর্ভপাতের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে ডেঙ্গু হলে লক্ষণগুলো গর্ভাবস্থার সাথে মিলে ভুল–বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে, যা জটিলতা বাড়ায়। তীব্র জ্বর গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে, শেষ তিন মাসে ডেঙ্গু হলে প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ বা অন্যান্য জটিলতার আশঙ্কা বাড়ে।
এই মৌসুমে কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারীর জ্বর হলে অবহেলা করা উচিত নয়। শুরুতে ডেঙ্গুকে সাধারণ ভাইরাসজনিত জ্বর মনে হলেও, জ্বরের প্রথম দিনেই রক্ত পরীক্ষা করিয়ে ডেঙ্গুর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে রক্তে ভাইরাস না পাওয়া সত্ত্বেও লক্ষণ বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় তীব্র জ্বর হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াই শ্রেয়। প্যারাসিটামল–জাতীয় ওষুধ, পর্যাপ্ত তরল খাবার ও স্যালাইন দেওয়া ছাড়া বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন না হলেও, রোগীদের নজরদারিতে রাখা অপরিহার্য, যা অনেক সময় বাড়িতে সম্ভব হয় না।
পরামর্শ: পূর্ণ বিশ্রাম নিন এবং ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করুন। জ্বরের জন্য শুধুমাত্র প্যারাসিটামল–জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করুন। জ্বরের শুরুতেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হোন। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নিলে মা ও শিশু উভয়েই ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারেন।
(অধ্যাপক ডা. শাহনুর শারমিন, মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ)