যুক্তরাষ্ট্রের বেটস কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ছেন তানভীর তানমিদ। গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশন বা জিআরই পরীক্ষায় তিনি ৩৪০-এ ৩৪০ স্কোর অর্জন করেছেন। কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং এবং ভার্বাল রিজনিং—উভয় বিভাগেই তার স্কোর ১৭০। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের কাছে জিআরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রাম ও অর্থায়নের সুযোগের ক্ষেত্রে ভালো স্কোর আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে।
তানভীর জানান, এই স্কোর পাওয়ার পর সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি শুনেছি, তা হলো কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তিনি বলেন, "এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে অনেক রিসোর্স, কৌশল বা প্রস্তুতির পদ্ধতির কথা বলা যায়। কিন্তু আমার পুরো প্রস্তুতিকে যদি একটি মূলনীতির মধ্যে নিয়ে আসতে হয়, তাহলে সেটা হলো ‘ভলিউম’।" তার প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য ছিল প্রচুর চর্চা করা। এত বেশি প্রশ্ন সমাধান করা, এত বেশি ধরনের সমস্যা দেখা এবং নিজের ভুলগুলো এতবার বিশ্লেষণ করা, যেন পরীক্ষার হলে গিয়ে প্রশ্ন দেখে নতুন মনে না হয়। প্রশ্ন নতুন হতে পারে, কিন্তু তার ধরন যেন পরিচিত লাগে।"
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, "বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছে জিআরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তবে জিআরইকে শুধু গণিত আর ইংরেজির পরীক্ষা হিসেবে দেখলে প্রস্তুতির শুরুতেই ভুল হতে পারে। এখানে শুধু জ্ঞান যাচাই করা হয় না, বরং সময়ের চাপের মধ্যে কত দ্রুত সমস্যা বুঝতে পারছি, তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারছি এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছি, সেটিও পরীক্ষা করা হয়। আমার কাছে জিআরই প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল পরিচিতি তৈরি করা।"
প্রশ্ন সমাধানের সময় কোন পদ্ধতিতে কাজ করবেন, কোথায় ফাঁদ থাকতে পারে, তা আগে ভাবতে হতো। কিন্তু শত শত প্রশ্ন সমাধান করার পর এই চিন্তার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়ে যায়। তানভীরের লক্ষ্য ছিল পরীক্ষার দিনে এমন একটি অবস্থায় থাকা, যেখানে প্রশ্ন দেখে আতঙ্কিত হতে হবে না। তিনি বলেন, "হয়তো নির্দিষ্ট প্রশ্নটি আগে দেখিনি, কিন্তু তার ধরন আগে বহুবার দেখেছি। তবে শুধু অনেক প্রশ্ন সমাধান করলেই হবে না। চর্চার সঙ্গে বিশ্লেষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রশ্ন ভুল হলে শুধু সঠিক উত্তর দেখে সামনে এগিয়ে যাইনি। চেষ্টা করেছি বুঝতে—ভুলটি কেন হলো।"
ভুল সাধারণত তিন ধরনের হতো: ধারণাগত সমস্যা, অসাবধানতা, বা সময় ব্যবস্থাপনার সমস্যা। প্রতিটি ভুল চিহ্নিত করার জন্য তিনি এরর লগ ব্যবহার করতেন। কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ের ক্ষেত্রে বেসিক ধারণা পরিষ্কার করা এবং টাইমড প্র্যাকটিসে মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, "প্রস্তুতির একটি পর্যায়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টি পর্যন্ত প্রশ্ন সমাধান করেছি, সময় ধরে।" জ্যামিতি, ওয়েটেড অ্যাভারেজ এবং কিছু নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের ধরনে দুর্বলতা থাকায় সেগুলো আলাদা করে অনুশীলন করেন।
ভার্বাল অংশের ক্ষেত্রে তিনি মনে করেন, শুধু কঠিন শব্দ মুখস্থ করলেই ভালো করা যায় না। শব্দভান্ডারের পাশাপাশি বাক্যের যুক্তি বোঝা, লেখকের উদ্দেশ্য বুঝতে পারা এবং তথ্য বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রায় ২ হাজার শব্দের ভোকাবুলারি প্রস্তুত করেছিলেন, কিন্তু শুধু অর্থ মুখস্থ না করে ব্যবহারিক প্রসঙ্গ বুঝতে চেয়েছেন। টেক্সট কমপ্লিশন এবং সেন্টেন্স ইকুইভ্যালেন্সের ক্ষেত্রে বাক্যের ধরন, ইতিবাচক বা নেতিবাচক দিক এবং লেখকের মনোভাব বুঝতে হয়। রিডিং কম্প্রিহেনশনের ক্ষেত্রেও প্যাসেজে আসলে কী বলা হয়েছে, সেটিই বুঝতে হবে।
প্রস্তুতির শেষ দিকে মক টেস্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। শুরুর দিকে তার মক স্কোর ৩২৮ থেকে ৩৩০-এর আশপাশে ছিল, যা পরে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। স্কোরের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল প্রতিটি পরীক্ষার পর নিজের দুর্বলতা খুঁজে বের করা। তিনি অফিশিয়াল উপকরণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, কারণ পরীক্ষার প্রশ্নের ভাষা, ধরন এবং ফাঁদ বোঝার জন্য মূল উৎসের উপকরণ সবচেয়ে কার্যকর। আইবিএ ভর্তি পরীক্ষা এবং স্যাটের প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা তাকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে, তবে জিআরইর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট অনুশীলন এবং প্রচুর প্র্যাকটিসই চূড়ান্ত ফলাফল পেতে সাহায্য করেছে।