এশিয়ান গেমস নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে ভারত। শেফালি ভার্মার ঐতিহাসিক শতক এবং স্মৃতি মন্ধানার বিশ্বরেকর্ডের দিনে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান তুলেছে। ফাইনালে উঠতে বাংলাদেশকে করতে হবে ১৯৬ রান।
টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া ভারতীয় দলের দুই ওপেনার মন্ধানা ও শেফালি শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন। এই জুটিতেই প্রথম মাইলফলক ছোঁয়েন মন্ধানা। ব্যক্তিগত ৮ রান পেরোনোর পথে নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটসকে ছাড়িয়ে নারী আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৯ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৩৭ রান করে নাহিদা আক্তারের বলে আউট হন মন্ধানা। এই ইনিংসেই প্রথম ভারতীয় নারী ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ ছক্কার মাইলফলক পূর্ণ করেন তিনি।
মন্ধানা ফিরলেও বাংলাদেশের স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অন্য প্রান্তে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন শেফালি। মাত্র ২৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পথে নিজের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের শততম ছক্কাও মারেন তিনি। এরপরও থামেননি ভারতীয় ওপেনার। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে ৪৯ বলে পূর্ণ করেন শতক। ১০০ রানে অপরাজিত থেকে ইতিহাসও গড়েন শেফালি। নারী ক্রিকেটে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এটিই প্রথম সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও এটি শেফালির প্রথম শতক।
মন্ধানা ফেরার পর গুনালান কামালিনি ১০ বলে ৩ রান করে দ্রুত ফিরে যান। তবে অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরকে নিয়ে বড় জুটি গড়ে ভারতের ইনিংস এগিয়ে নেন শেফালি। হারমানপ্রীত ৩৩ বলে করেন ৪০ রান। শেষ দিকে রিচা ঘোষ ৪ বলে ২ রান করে ফিরলেও ভারতী ফুলমালি ৫ বলে অপরাজিত ৯ রান করেন। শেফালি শেষ বল পর্যন্ত টিকে থাকায় ২০ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৯৫।
এশিয়ান গেমসে এটিই ভারতের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ২০২৩ সালে হাংঝুতে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ১৫ ওভারে করা ১৭৩/২ ছিল তাদের আগের সর্বোচ্চ। তবে নারী এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সামগ্রিক সর্বোচ্চ সংগ্রহ এখনো হংকংয়ের। ২০২৩ আসরে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৪ উইকেটে ২০২ রান করেছিল তারা।
এখন স্বর্ণপদকের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হতে বাংলাদেশকে পাড়ি দিতে হবে ১৯৬ রানের কঠিন পথ।