কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতিতে বাসার পাশের কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ বিদায় জানানোর সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের খবর পেয়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরদেহে মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি কোটবাড়ি গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন, যাতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এর আগে এদিন সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা এবং বেলা ১১টায় গন্ধমতিতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।