যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার মাধ্যমে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের জন্য আরোপিত ১ লাখ ডলার অতিরিক্ত ফি আরও এক বছরের জন্য প্রযোজ্য থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে এ সিদ্ধান্ত জানান। তিনি এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধির ওপর জারি করা নির্বাহী আদেশের মেয়াদ বর্ধিত করেছেন।
এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগদাতারা নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে কয়েক বছরের জন্য দক্ষ বিদেশি কর্মীদের দেশটিতে কাজ করার সুযোগ দেয়। প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত বিদেশি কর্মীরা এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির সমালোচনা করে আসছেন। এ ভিসার সাধারণ ফি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে। ট্রাম্প তা স্থায়ীভাবে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করতে চান। তবে তাঁর এ উদ্যোগ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে।
বোস্টনের একটি আপিল আদালত গত জুনে এক ফেডারেল বিচারকের দেওয়া রায় পর্যালোচনা করছেন। ওই বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বাড়তি ফিকে বেআইনি ঘোষণা করেন এবং তা আদায় করা থেকে সরকারকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্স এ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে একটি মামলা করেছিল। ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক বেরিল হাওয়েল সেটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। এ সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আরেকটি আদালত।
যাঁরা আগে বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন ও পরে এইচ-১বি ভিসার আবেদন করেছেন, তাঁদের জন্য এ বাড়তি ফি প্রযোজ্য নয়। আর নির্বাহী আদেশের আগেই যাঁদের এইচ-১বি ভিসা ছিল, তাঁদের ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে বাড়তি ফি দিতে হবে না।
ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে প্রথম নির্বাহী আদেশ জারি করে। ওই আদেশের মেয়াদ চলতি মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবীদের নিয়োগ দেওয়া যায়। একই সঙ্গে কিছু খাতে যোগ্য মার্কিন কর্মীর ঘাটতিও পূরণ করা সম্ভব হয়। তবে সমালোচনা আছে যে কিছু প্রতিষ্ঠান মার্কিন নাগরিকদের বদলে কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে এ ভিসা ব্যবহার করে।
কংগ্রেস ১৯৯০ সালে এইচ-১বি ভিসা চালু করে। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে প্রযুক্তি খাতের দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ভিসা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।