নবম জাতীয় পে স্কেলের আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের বৈশাখী ভাতার হার ৫ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বর্তমানে চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পান। তবে নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী এই হার কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ বিভাগ থেকে পে স্কেল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গেজেটে তারিখ হিসেবে ১৭ সেপ্টেম্বর উল্লেখ থাকলেও প্রজ্ঞাপনটি আজ প্রকাশিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সকল কর্মচারী আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। এছাড়া মাসিক নিট পেনশন গ্রহণকারী অবসরভোগী এবং আজীবন পেনশন গ্রহণকারী অবসরভোগীরাও (মূল পেনশনভোগীর প্রাপ্ত নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরে) এই ভাতা পাবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এই প্রজ্ঞাপনটি 'চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬' নামে অভিহিত। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুসারে, নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০–২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে ভাতা পাবেন। এই সময়কাল চলছে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে এই ভাতা যুক্ত হবে।

এ ছাড়া ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০–২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে ভাতা পাবেন। আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে। যেহেতু গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হয়েছে, তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়া বেতনও পাবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতনকাঠামোর অন্য সব ভাতা পাওয়া শুরু করবেন। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতনকাঠামোর যাবতীয় সব সুবিধা পাবেন।

নতুন বেতনকাঠামোতে ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়বে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।