তীব্র গরম ও প্রখর রোদ উপেক্ষা করে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বরে পথসভাস্থলে জড়ো হচ্ছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এই স্থানে আসছেন। ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চ সফল করতে এই পথসভার আয়োজন করা হয়েছে।
পথসভার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা জাহিদুল ইসলাম। সভাস্থলে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দলীয় ও জোটের ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে আসছেন। তীব্র গরমেও তারা নিঃশঙ্কে সভাস্থলে প্রবেশ করছেন।
নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সুবিধার্থে স্বেচ্ছাসেবকরা ঠান্ডা পানি সরবরাহ করছেন। পাশাপাশি সভাস্থলের পাশে একটি প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।
লংমার্চের গাড়িবহর দুপুর ১২টার দিকে হাটিকুমরুলে পৌঁছানোর কথা। সেখানে পথসভা ও জোহরের নামাজের জন্য বিরতি রাখা হবে। ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, হাটিকুমরুল ছাড়াও গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, বগুড়ার মাটিডালির বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে এই লংমার্চ করছে ১১ দলীয় ঐক্য।
লংমার্চের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলী বলেন, "লংমার্চ ঘিরে আমাদের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করছি, লংমার্চ উপলক্ষে হাটিকুমরুলে প্রায় এক লাখ মানুষের সমাগম হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আগতদের সহযোগিতার জন্য এক হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, সুষ্ঠুভাবে লংমার্চের কর্মসূচি সম্পন্ন হবে।"
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, "পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।"
এদিকে, মঞ্চে মাইক স্থাপনের পাশাপাশি এক দিনের জন্য বৈদ্যুতিক মিটারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি ও প্রয়োজনীয় সুবিধার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পানি সরবরাহ, শৃঙ্খলা রক্ষা ও আগতদের সহযোগিতার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫০টি অস্থায়ী শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে।