ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘরের অভ্যন্তরে সম্প্রতি 'অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক' নামে একটি নতুন বিনোদনকেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট এই পার্কটির উদ্বোধন করা হয়। এখানে মাছের রঙিন দুনিয়া, কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনা এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখির সংগ্রহ দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে ওঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পার্ক পরিদর্শনে গেলে প্রথমেই চোখে পড়ে কাচের দেয়ালের ওপাশে থাকা মাছের বিশাল সংগ্রহ। এখানে মোট ৩৫টি অ্যাকুয়ারিয়াম ট্যাংক রয়েছে। প্রতিটি ট্যাংকের ওপর মাছের নাম, আবাসস্থল এবং পরিচিতি সংক্রান্ত তথ্য প্ল্যাকার্ডে লেখা আছে। পার্কে ঝুঁটিওয়ালা ফ্লাওয়ার হর্ন, চিংড়ির মতো দেখতে ক্রেফিশ, কুমিরের মতো মুখ বিশিষ্ট অ্যালিগেটর গার, ভয়ংকর অ্যালবিনো শার্ক, রেইনবো শার্ক, পেরুন শার্ক এবং পাঙাশ মাছের মতো দেখতে পাঙ্গাসিয়াস শার্কসহ অনেক ধরনের মাছ রাখা হয়েছে।
এছাড়াও শামুক খেয়ে বড় হওয়া ৪ বছর বয়সী ১২ কেজি ওজনের ব্ল্যাক কার্প, ৮ কেজি ওজনের গ্রাস কার্প এবং আড়াই কেজি ওজনের তেলাপিয়া রয়েছে। দেশি মাছের মধ্যে শোল ও খলসাও এখানে পাওয়া যায়। দর্শনার্থীরা মনে করতে পারেন, যেন টিভি পর্দায় বা মুঠোফোন স্ক্রিনে দেখা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের মাছের দুনিয়া যেন বাস্তবে চোখের সামনে এসে হাজির হয়েছে।
মাছের জগৎ থেকে বেরিয়ে সামনে এগোলেই একটি টানেল, যেখানে কৃত্রিম ধোঁয়া সময়ে সময়ে রং পাল্টাচ্ছে। এরপরই ঝমঝমিয়ে পড়া ৪০ ফুট উঁচু কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনাধারার পানি দেখা যায়। সেই পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে রঙিন কই ও কার্প মাছ, যেগুলোকে দর্শনার্থীরা নিজ হাতে খাবার খাওয়ানোর সুযোগ পাবেন।
ঝরনার পর লোহার শিকলের পর্দা সরিয়ে পাখির রাজ্যে প্রবেশ করা যায়। এখানে গ্রিন-উইংড ম্যাকাউ, ব্লু অ্যান্ড গোল্ড ম্যাকাউ, লাভবার্ডসহ বিচিত্র সব পাখি রয়েছে। পার্কের পাখিশালায় বিভিন্ন রঙের পাখিকে কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি ছবি তোলাও সম্ভব।
পার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ সিদ্দিকী জানান, শিগগিরই পার্কে লোনাপানির বিচিত্র মাছ যোগ হবে। মাছের গ্যালারি শেষে ঝরনার আগে যে টানেল পড়ে, সেখানে কাচের জারে বিশেষ উপায়ে সংরক্ষিত বিলুপ্তপ্রায় সব মাছ প্রদর্শিত হবে। এসব মাছকে জীবন্ত অবস্থায় প্রদর্শন করা সম্ভব নয় বলেই এ ব্যবস্থা। এছাড়া যোগ হবে বার্ড ফিডিং জোন, যেখানে দর্শনার্থীদের হাত থেকেই পাখিরা উড়ে উড়ে এসে খাবার খেয়ে যাবে। স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে বিশেষ কুইজ, ওয়ার্কশপ ও লার্নিং সেশন জোন।
টিকিটের মূল্য ও সময়সূচি:
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘরের ভেতরেই পার্কটির অবস্থান। তাই শুরুতে দুই বছরের বেশি বয়সী দর্শনার্থীদের জাদুঘরের ৫০ টাকা দামের টিকিট কাটতে হবে। জাদুঘরে ঢুকে হাতের ডানে হেঁটে গেলেই অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক। সেখানেও দুই বছরের বেশি বয়সীদের ১৫০ টাকায় টিকিট কেটে পার্কে প্রবেশ করতে হবে। ২৭ সেপ্টেম্বরের পর টিকিটের মূল্য হবে ২০০ টাকা। দলগতভাবে ভ্রমণে আসা স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য টিকিটের মূল্যে মিলবে ৫০ শতাংশ ছাড়।
বিশেষ সুবিধা:
১২ ও এর কম বয়সী শিশুরা ১০০ টাকার বিনিময়ে ছোট নেট দিয়ে মাছ ধরার সুযোগ পাবে। অ্যাকুয়ারিয়াম চাষের উপযোগী সেই ছোট ছোট মাছ যে কয়টা ধরতে পারবে, তা সে সঙ্গে করে নিয়েও যেতে পারবে। চাইলে এখান থেকে অ্যাকুয়ারিয়ামের জারও কিনে নিতে পারবে।
৫০ টাকার টিকিটে যে কেউ নির্দিষ্ট দুটি জায়গায়—লিচুতলার বড় পানির ট্যাংক আর ৪০ ফুট উঁচু থেকে পড়া পাহাড়ি ঝরনার তলা—নিজ হাতে মাছকে খাবার দিতে পারবেন। ছোট্ট কৌটায় শর্ষের দানার মতো খাবার হাতে নিয়ে পানিতে ফেললে, অমনি ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা মাছগুলো সব দল বেঁধে ছুটে আসবে আপনার কাছে।
২৫০ টাকার টিকিট কেটে পাখিশালায় ম্যাকাউ পাখি হাতে নিয়ে ছবি তোলার ব্যবস্থাও আছে। চাইলে ৩০০ টাকার বিনিময়ে ম্যাকাউ কাঁধে নিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি ফটো বুথেও ছবি ওঠাতে পারেন। পুরো পার্ক ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হলে অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক ক্যাফেতে আছে খাবারদাবারের ব্যবস্থা।
সময় ও স্থান:
আগারগাঁও মেট্রোস্টেশনের একেবারে লাগোয়া জাদুঘরটির অবস্থান। তাই আগারগাঁও আসতে হবে। সোম থেকে বৃহস্পতি বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আর শুক্র, শনি ও সরকারি ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। রোববার সাপ্তাহিক ছুটি।