কুষ্টিয়ায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর হঠাৎ শুরু হয় টানা এক ঘণ্টা বৃষ্টি। এতে শহরের অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে গভীর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে সরু অলিগলি—সর্বত্রই পানির উচ্চতা হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জলাবদ্ধ সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় মোট ৩০ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। এর ফলে কুষ্টিয়াসহ কয়েকটি জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টি থেমে গেলেও দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের এনএস রোড, কোর্টপাড়া, কলেজ মোড় এবং হাসপাতাল মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে পানি জমেছে। পানির কারণে সড়কের গর্ত ও সমতল অংশ চেনা যাচ্ছে না, যা পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও রিকশাচালকদের চলাচলে কষ্ট হচ্ছে। পানির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে যান চালাতে গিয়ে অনেক চালক ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু পথচারী জুতা হাতে নিয়ে পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

জলাবদ্ধতার কারণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটেছে। দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে পানি জমে থাকায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় শহরের কয়েকটি এলাকায় সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর না হওয়ায় বর্ষার সময় প্রতিবছর একই চিত্র দেখতে হয়।

এনএস রোডে পথচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, "একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। আজ এক ঘণ্টার মধ্যেই রাস্তার অবস্থা এমন হয়েছে যে হাঁটাচলা করাই কঠিন। শহরের পানি কোথায় যাবে, সেই ব্যবস্থা না করলে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি নেই।"

কলেজপড়ুয়া সুমাইয়া আক্তার বলেন, "বৃষ্টির মধ্যে বের হয়ে দেখি রাস্তার ওপর অনেক পানি। পোশাক ও জুতা ভিজে গেছে। যানবাহনও ঠিকমতো চলতে পারছে না। সামান্য সময়ের বৃষ্টিতেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে টানা বৃষ্টি হলে কী হবে?"

রিকশাচালক আব্দুল হালিম বলেন, "পানির মধ্যে রিকশা চালাতে সমস্যা হচ্ছে। কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা বোঝা যাচ্ছে না। যাত্রীদেরও ভোগান্তি হচ্ছে।" শহরের আরেক বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ বলেন, "বৃষ্টির পানি দ্রুত নামার ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর একই চিত্র দেখতে হয়। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে যায়।"

বিষয়টি নিয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, "আমাদের ড্রেনের কাজ চলছে। সড়ক থেকে পুরোপুরি পানি সরে যেতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগবে। ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হলে আগামীতে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।"

নগরবাসীর দাবি, স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি। না হলে সামান্য বৃষ্টিতেই জনদুর্ভোগ বাড়তে থাকবে।