কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কাদেরিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে দান করা ৪৮ শতক জমির বাজারমূল্য নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ওই জমির মূল্য ১২০ কোটি টাকা বলে ঘোষণা দেওয়া হলেও, জমিদাতা ওবায়দুল মোস্তফা ওরফে জসিম স্বয়ং এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, জমিটির প্রকৃত মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা এবং অনুষ্ঠানে উচ্চারিত ১২০ কোটি টাকার সংখ্যাটি ভুল।

গত সোমবার কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ওই মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে একটি মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তা পীর সাবির শাহ জমিদাতা জসিমকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় প্রায় ১২০ কোটি টাকার জমি দানের কথা উল্লেখ করেন। এরপর জসিমকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এই ঘোষণার পর থেকেই জমির মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।

জমিদাতা জসিম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এটি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি। আমি ছদকা হিসেবে দান করেছি। আমরা চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে জায়গা বণ্টনের পর আমি যে জায়গা পেয়েছি, সেটি দান করেছি। তবে মাইকে যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সেটি সঠিক নয়, ভুলে এত মূল্য বলেছে আয়োজকরা।"

তিনি আরও বলেন, "আমি এটার প্রতিবাদ জানাতে কমিটিকে বলেছিলাম। তারা বলেছে, এটা এখন আবার দিলে সুন্নীয়তে বদনাম করবে ওহাবিরা। তবে এটা ডাহা মিথ্যা কথা বলে ঘোষণা করেছে।"

জমির নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে ব্যবহৃত ৪৮ শতক জমি আসলে ২০১৯ সালেই চট্টগ্রামের আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের কাছে হেবা করা হয়েছিল। অর্থাৎ, সোমবারের মাহফিলে জমি দানের ঘটনা ঘটে নি; শুধুমাত্র জমিদাতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল। পারিবারিক সম্পত্তি ভাগ-বণ্টনের পর জসিমের অংশে আসা জমি ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহারের জন্য দান করা হয়।

মাদ্রাসার সেক্রেটারি এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম আজম মুক্তকণ্ঠকে জানান, জসিম সাহেবের কোনো সন্তান নেই। ভবিষ্যতে মাদ্রাসার পাশাপাশি অন্য কী কী করা যায়, তা আঞ্জুমান ট্রাস্ট দেখবে। তিনি বলেন, "এখানের ৪৮ শতক পরিবার থেকে পেয়েছেন। তবে ৪৮ শতকের মধ্যে ১২ শতক আরেক ভাইয়ের। সেটি বদলাবদলি করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টনের পর জসিমের দখল ও মালিকানায় আসা জমির সঙ্গে তার ভাইয়ের অংশের জমি বদলাবদলি করে মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের জন্য ৪৮ শতক জমি একত্র করা হয়েছে।"

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিদাতা ওবায়দুল মোস্তফা ওরফে জসিম কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মরহুম সেকান্দর আলীর ছেলে। ছোটবেলায় কিছুটা পড়াশোনা করলেও পরবর্তীতে তিনি নিয়মিত চাকরি বা ব্যবসায় যুক্ত হননি। সন্তান না থাকায় তিনি সুফি সাধনায় জীবন কাটাচ্ছেন এবং পৈতৃক সম্পত্তির আয় থেকে চলেন। কুমিল্লা শহরে তার দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার একটি তিনি নিজের জন্য ব্যবহার করেন এবং অন্যটি ভাড়া দেওয়া আছে।