জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের ১০ শয্যার হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে ৩৬ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগীর ভিড় এবং শয্যার অভাবের পাশাপাশি ঘনঘন লোডশেডিং এই রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। পর্যাপ্ত শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে পাটি বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে ওয়ার্ডে প্রচণ্ড গরম তৈরি হচ্ছে, যা শিশুদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতাল পরিদর্শনে দেখা যায়, হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ সামলাতে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। শয্যা না থাকায় অনেক রোগী ও তাদের স্বজন মেঝেতেই অবস্থান করছেন। কিছু মা শিশুকে কোলে নিয়ে বসে আছেন, আবার অনেকে মেঝেতে পাটি বিছিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১,২০৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১,১৬৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৩৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। আক্রান্ত রোগীদের জন্য ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে একটি জরুরি মেডিকেল টিমও গঠন করা হয়েছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

স্বজনরা অভিযোগ করেন, রোগীর তুলনায় জায়গা কম হওয়ায় ওয়ার্ডে গাদাগাদি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর ওপর বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে শিশুদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। সরিষাবাড়ী থেকে সন্তানকে চিকিৎসা করাতে আসা মানিক মিয়া বলেন, "দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন ঘরের ভেতরে গরমে টেকা যায় না; বাচ্চারা কান্নাকাটি শুরু করে। হামের রোগী এমনিতেই জ্বরে কষ্ট পায়, তার ওপর গরমে আরও অস্থির হয়ে পড়ে। জায়গার অভাবে আমরা মেঝেতে পাটি বিছিয়ে আছি। বিদ্যুৎ না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।"

মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা মোছা. হাসি বেগম বলেন, "ইসলামপুর থেকে জামালপুর হাসপাতালে আসতে বলা হয়। এখানে এসে দেখি প্রচণ্ড ভিড়, জায়গা নেই। মানুষের ঠাসাঠাসি, কোথায় থাকি? আমরা মেঝেতে পাটি বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। হাঁটাচলার সময় মানুষ গায়ের ওপর পা দিয়ে ফেলার উপক্রম হয়। এর মধ্যেই অসুস্থ রোগীকে নিয়ে আছি, কী করব?"

আব্দুল কাদের নামের অন্য এক স্বজন বলেন, "আমার ছেলের তিন দিন ধরে জ্বর। হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে বিদ্যুৎ নিয়ে। লোডশেডিং হলেই তীব্র গরমে ঘরে থাকা যায় না; বাচ্চারা ঘেমে একাকার হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে অসুস্থ শিশুকে কোলে নিয়ে বাইরে গিয়ে বসে থাকতে হয়। হাসপাতালের চিকিৎসা পাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে কষ্ট অনেক বেড়ে যাচ্ছে।"

এ বিষয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক সোহানুর রহমান বলেন, "বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ১০ জন। তবে আমাদের হাসপাতালে হামে আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।"

লোডশেডিংয়ের কারণে চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত হওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, "বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, কিন্তু জ্বালানি সরবরাহেও সংকট রয়েছে। তাই আমরা রেশনিং করে জেনারেটর চালাচ্ছি; কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টা চালানো হচ্ছে। তা সত্ত্বেও রোগীদের সেবা সচল রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"