জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, "লংমার্চ করে যদি বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হতো, তাহলে আমরাও লংমার্চ করতাম।" মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনার আড়ংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, কেডস ও পাটের ব্যাগ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধী দলগুলোর লংমার্চ কর্মসূচির বিষয়ে হুইপ বকুল বলেন, এটি পুরোপুরি একটি রাজনৈতিক কৌশল। তিনি জানান, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এবং অনেক জাতীয় সংকট সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নিরসন করা হয়। তবে মাঠের কর্মসূচির বাস্তবতাও বুঝতে হবে। তিনি আরও বলেন, "লংমার্চ করলেই যদি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হয়ে যেত, তাহলে তো আমরাও লংমার্চ করতাম।" সমস্যার বাস্তবমুখী সমাধান না খুঁজে কেবল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা না করার আহ্বান জানান তিনি।
খুলনার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুইপ বকুল বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে বলেন, খুলনায় অপরাধের ধরন ভিন্ন হওয়ায় গতানুগতিক ধারায় অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাস দমন সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট সমস্যা ও অপরাধীদের আগে চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসুন। সাধারণ মানুষের ঘুম হারাম করে, জনজীবনে অস্থিরতা তৈরি করে বা চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। সরকারের হাত অপরাধীদের হাতের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। কেউ যদি নিজেকে সরকারের চেয়ে ক্ষমতাবান ভাবে, তবে সে মারাত্মক ভুল করছে।
তবে অপরাধ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান—এমন ব্যক্তিদের সরকার পুনর্বাসন ও আইনগত সহযোগিতা দেবে বলেও জানান তিনি। বেকারত্ব দূরীকরণে বন্ধ মিল-কারখানা চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে যুবসমাজকে অপরাধমুক্ত রাখার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন হুইপ বকুল।
এর আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৪৬৫ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন স্কুল ড্রেস, জুতো ও পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্যে হুইপ বকুল বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের কোনো শিক্ষার্থী যেন আর্থিক বা সামাজিক প্রতিকূলতার কারণে শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে।
দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন দাস গুপ্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ হুরে জান্নাত। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি এম মুর্শিদ কামাল, খান জাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন, খান জাহান আলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মতলেবুর রহমান মিতুল এবং খালিশপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস।
এ সময় আড়ংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনায়েতুল হকসহ সহকারী শিক্ষক ফারহানা রহমান, নার্গিস সুলতানা, সঞ্জয় কুমার সাহা, হীরা খাতুন, শেখ আজগর আলী, মো. শফিকুল ইসলাম, শ্যামলী সরদার, রাবেয়া আফরোজ, মো. হাফিজুর রহমান এবং বিপুলসংখ্যক অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।