ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের পর্দা নেমেছে। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ ১২ জনের বেশি বিশ্বনেতা অংশ নেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী নেতাদের সম্মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি জমকালো নৈশভোজের আয়োজন করেন। নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানের ‘ভারত মণ্ডপমে’ গত শনিবার সন্ধ্যায় এ অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত জানানোর পর মোদি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে আমিষ খাবার বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নিরামিষ মেনু তুলে ধরেন। তবে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের স্বাদ ও রন্ধনশৈলীর মিশেল ছিল সেখানে।
অতিথিদের জন্য শুরুতে পরিবেশন করা হয় দুটি পদ: খান্দভি মিলেফয় এবং খুম্ব গালৌটি কাবাব। খান্দভি গুজরাটের একটি জনপ্রিয় খাবার, যা বেসন দিয়ে তৈরি এবং এতে শর্ষে, নারকেল ও কারিপাতা থাকে। কেসর আম, দই ও সবুজ পাতা দিয়ে সাজিয়ে এটি পরিবেশন করা হয়। অন্যদিকে, খুম্ব গালৌটি হলো মাশরুম দিয়ে তৈরি সুস্বাদু কাবাব, যা পুদিনাপাতা দিয়ে গ্রিল করে শিরমাল রুটির সাথে দেওয়া হয়।
মূল খাবারের তালিকায় ছিল পনির লাবাবদার, গুচ্চি মারমিক, ক্যারট বিন পোরিয়াল, থাক্কালি বেলে সারু এবং মিলেট পোলাও। পনির লাবাবদার উত্তর ভারতীয় একটি পদ, যা ছোট আকারের পেঁয়াজ ও টমেটোর ঘন ঝোলে ডোবানো নরম পনির দিয়ে রান্না করা হয়। গুচ্চি মারমিক হিমালয়ের বিশেষ গুচ্চি মাশরুমের সাথে জাফরান, কিশমিশ ও কাঠবাদাম মিশিয়ে তৈরি করা হয়। ক্যারট বিন পোরিয়ালে গাজর ও সবুজ বীজ খাঁটি নারকেল তেল ও দক্ষিণ ভারতীয় মসলায় টোস্ট করে টাটকা নারকেলের সাথে পরিবেশন করা হয়। থাক্কালি বেলে সারু হলো টমেটো ও কারিপাতা দিয়ে তৈরি ডালের দক্ষিণ ভারতীয় পদ। মিলেট পোলাও সুগন্ধি বাসমতী চালের সাথে বাজরা ও মসলা মিশিয়ে বানানো হয়। এছাড়া দই মেশানো বিটরুটের রায়তা ও বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটিও পরিবেশন করা হয়।
মিষ্টির হিসেবে ছিল পুরোনো দিল্লির ঐতিহ্যবাহী ফ্রুটক্রিমের সাথে জিলাপি। বিভিন্ন মৌসুমি ফলের সাথে হালকা হুইপড ক্রিম মিশিয়ে মচমচে জিলাপির সাথে এটি দেওয়া হয়। শাহুতুত ফিরনিও ছিল মেনুতে, যা ঢিমে আঁচে ফুটতে থাকা দুধের সাথে চাল, মিষ্টি মালবেরি ও খাওয়ার যোগ্য সোনার পাত মিশিয়ে তৈরি করা হয়।
নৈশভোজের শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ১৬০ জন শিল্পী অংশ নেন। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য ও সংগীতশিল্পীদের পাশাপাশি ব্রিকসের বিভিন্ন দেশের শিল্পীরাও এতে যুক্ত ছিলেন। ভরতনাট্যম, কুচিপুড়ি, ওডিশি ও কত্থক নৃত্য এবং ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনা চলে ২০ থেকে ২৫ মিনিট। এই অনুষ্ঠানটি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংস্কৃতিক শাখা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের (আইসিসিআর) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মোদির আয়োজিত নৈশভোজে আমন্ত্রিত নেতাদের সবাই উপস্থিত না থাকলেও সি চিন পিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালিদ বিন মোহাম্মদ অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের অনুপস্থিতির কারণ এখনো জানা যায়নি।