দুবাইয়ে নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো শিরোপা জিতেছে ভারত। দুই বছর আগে ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছেই হেরেছিল তারা। এবার সেই প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করে হারানো মুকুট ফিরিয়ে নিল হারমানপ্রীত কৌরের দল। ভারতের ১৮৩ রানের জবাবে মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায় দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্রটি।

ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। প্রথম উইকেটে দুজন যোগ করেন ১২৯ রান। ৩৯ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৬৮ রান করেন শেফালি। একই সংখ্যক বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৯ রান আসে মান্ধানার ব্যাট থেকে। মাত্র ২৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন শেফালি, যা নারী এশিয়া কাপের ইতিহাসে দ্রুততম অর্ধশতক। ফাইনালে তাদের ১২৯ রানের জুটিও সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি।

দুই ওপেনার ফেরার পর অবশ্য ভারতের রান কিছুটা আটকে দেয় শ্রীলঙ্কা। হারমানপ্রীত ১৪ ও রিচা ঘোষ ১৭ রান করেন। তবে শেষ দিকে গুনালান কামালিনির ৫ বলে অপরাজিত ১৫ রানে ৫ উইকেটে ১৮৩ পর্যন্ত পৌঁছায় ভারত।

১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। প্রথম ওভারেই ইমেশা দুলানিকে ফেরান ক্রান্তি গৌড়। এরপর অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ও বিশমি গুনারত্নে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রান যোগ করে কিছুটা আশা জাগান। সেই জুটি ভাঙতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ভারত। ৩২ বলে ৩৬ রান করা আতাপাত্তুকে ফেরান দীপ্তি শর্মা। একই ওভারে ২০ রান করা গুনারত্নেকেও বোল্ড করেন তিনি। ৬২ রানে ১ উইকেট থেকে মুহূর্তেই ৬৩ রানে ৩ উইকেটে পরিণত হয় শ্রীলঙ্কা।

এরপর শ্রী চরণির ঘূর্ণিতে ধসে পড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। হর্ষিতা সামারাবিক্রমা, নিলাক্ষিকা সিলভা, কাভিশা দিলহারি ও সুগন্ধিকা কুমারিকে ফিরিয়ে ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। দীপ্তি ১৯ রানে নেন ৩ উইকেট। শেষ ওভারে কৌশানি নুথ্যাঙ্গনাকে বোল্ড করে শ্রীলঙ্কার ইনিংস ১১১ রানে থামান দীপ্তি; সঙ্গে নিশ্চিত হয় ভারতের ৭২ রানের জয় এবং অষ্টম এশিয়া কাপ শিরোপা।

২০২৪ সালের ফাইনালে ভারতকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবার এশিয়া কাপ জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। দুই বছর পর একই প্রতিপক্ষকে হারিয়েই হারানো মুকুট ফিরে পেল ভারত। এর আগে ২০০৪, ২০০৫-০৬, ২০০৬, ২০০৮, ২০১২, ২০১৬ ও ২০২২ সালে শিরোপা জিতেছিল তারা।