মাগুরার মহম্মদপুরে রাতের আঁধারে সংঘের নাম ব্যবহার করে সরকারি খাসজমি দখল ও টিনের ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলা সদরের ডাকবাংলোর উত্তর পাশে অবস্থিত সরকারি খাস জমিতে এই স্থাপনাটি তৈরি করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যাপাড়ীপাড়া যুব সংঘের নাম ব্যবহার করে ওই গ্রামের করিম বিশ্বাস একটি টিনের ঘর এনে সরকারি জায়গায় বসিয়ে দেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিকানা বিষয়ে ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২ সালের জরিপ অনুযায়ী জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত এবং এর মালিক জেলা প্রশাসক। হাল রেকর্ডে মহম্মদপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ১২৭৯ ও ১২৮০ দাগে জমিটি ‘ক্লাব’ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রেসক্লাব মহম্মদপুরের সভাপতি আজিজুর রহমান টুটুল ও সিনিয়র সহসভাপতি মো. মেহেদী হাসান পলাশ জানান, জায়গাটি প্রেসক্লাবের এবং সেখানে তাদের নামফলকও রয়েছে। তারা বিষয়টি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অবগত করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থাপনা অপসারণের আশ্বাস দেওয়া হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য তানজির রহমান সোহাগ বলেন, "সকালে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারি, ব্যাপাড়ীপাড়া সংঘের নামে সরকারি জমিটি দখল করা হয়েছে। এভাবে সরকারি জায়গা দখল করে রাখায় সরকারি ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত তদন্ত করে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
অভিযোগের মুখে করিম বিশ্বাস বলেন, "এটা আমাদের সংঘের জায়গা। আমরা আমাদের সংঘের জায়গাতেই ঘর তুলেছি।"
বিষয়টি নিশ্চিত করে মহম্মদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদমান আকিব মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "রাতে যে জায়গায় ঘর তোলা হয়েছে, সেটি সরকারি জায়গা। যারা ঘর তুলেছেন, তাদের আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা স্থাপনাটি সরিয়ে নেবেন। অন্যথায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে স্থাপনাটি অপসারণ করা হবে।"