মুক্তকণ্ঠের শনিবারের ক্রোড়াপত্র ‘ছুটির দিনে’-র নিয়মিত বিভাগ ‘ফিরে ফিরে যাই’-তে আজ প্রিয় ভ্রমণস্থানের গল্প তুলে ধরেছেন সংগীতশিল্পী ফাতিমা তুয যাহরা ঐশী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সজীব মিয়া।

গানের কাজে দেশের ৫২ জেলা ঘুরলেও ঐশীর মনে হয়, ভ্রমণ হিসেবে সেগুলো পুরোপুরি উপভোগ করা হয়নি। তবে দেশের মধ্যে বান্দরবান ও কক্সবাজার তার সবচেয়ে প্রিয় দুটি স্থান। তিনি বলেন, "এই দুটি জায়গায় আমাকে যতবার যেতে বলবে, ততবারই যেতে রাজি।"

সাগরের প্রতি ছোটবেলা থেকেই ঐশীর আকর্ষণ ছিল, কারণ তখনো তিনি পাহাড় দেখেননি। কিন্তু বান্দরবান প্রথম যাওয়ার পর সাগরের পাশাপাশি পাহাড়ও তার মন জয় করে নেয়। এরপর সময়ের সাথে সাথে পাহাড়ের প্রতি তার আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ব্যস্ত থাকার কারণে কম ঘুরেছেন ঐশী, তবে গত দুই-তিন বছরে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে শুধু কাজ করলেই চলবে না, একটু ঘুরে আসাও জরুরি। সেই উদ্যোগেই কয়েক বছর আগে তিনি বান্দরবান যান।

বান্দরবান ঘুরে ঐশীর বিশ্বাস, "আমাকে যতবার অপশন দেওয়া হবে, আমি ততবারই বান্দরবান যেতে চাইব।" স্বামীর সঙ্গে সেখানে কাটানো সময় তাঁর জন্য বিশেষ অর্থ বহন করে। তিনি বলেন, "বান্দরবানে অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত আছে। এর মধ্যে স্বামীর সঙ্গে যখন গিয়েছিলাম, তখন একেবারেই অন্য রকম একটা হানিমুন ফেজ ছিল। ফলে বান্দরবানে আমরা অনেক অনেক স্মৃতি তৈরি করেছি।"

পাহাড়ের ওপর দোলনায় দোল খেতে খেতে চা খাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অত্যন্ত স্মরণীয়। ঐশী জানান, "তার মধ্যে একটা ঘটনা আমার খুব মনে পড়ে। পাহাড়ের ওপর দোলনায় দোল খেতে খেতে চা খেয়েছি। আমি একটু টংয়ে চা খাওয়া, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চা খাওয়া—এ ধরনের একেবারে সাধারণ, স্বাভাবিক জীবনের বিষয়গুলো খুব পছন্দ করি। ব্যক্তিগতভাবে এভাবে থাকতে আমার ভালো লাগে। পাহাড়ের চূড়ায় বসে দোলনায় দোল খেতে খেতে চা খাওয়া, এটা আমার জন্য খুব স্পেশাল একটা মুহূর্ত ছিল।"

পাহাড়ের উঁচু-নিচু রাস্তায় বাইকে ঘোরার অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে থ্রিলিং বলে মনে হয়েছে।

ফ্রান্স সম্পর্কে ঐশী বলেন, "ফ্রান্স। কারণ সেখানে গিয়ে মনে হয়েছে, এটা একেবারে পিওরলি একটা ভালোবাসার শহর। তবে আমার একটা আক্ষেপ আছে। আমি যখন ফ্রান্সে গিয়েছি, সেটাও অনুষ্ঠানের সুবাদে। আমার সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারিনি। আমার ইচ্ছা আছে, আবার কোনো এক সময় প্যারিসে যাব, স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে।"