ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল বরাবর হুতি বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রযাত্রা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী মোখা দখল করে নেয় হুতি বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে এই বন্দরটি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে হুতিদের আগমনের পরপরই সরকারি বাহিনী দ্রুত সরে যায়।
বিবিসির জ্যেষ্ঠ আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা নাওয়াল আল-মাগাফি বলেন, "মোখা ও এর আশপাশের অঞ্চলের যাঁদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি, তাঁরা জানিয়েছেন, হুতিরা ঢোকার পরপরই সরকারি বাহিনী দ্রুত সরে যায়।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের প্রবেশের পরপরই শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিবারগুলো শহর ছেড়ে পালাতে শুরু করে। এ সময় স্থানীয় মানুষ হুতিরা কতদূর পর্যন্ত অগ্রসর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চিত ছিলেন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে ইয়েমেনে ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ ভিটেমাটিছাড়া হয়েছেন।
মোখা দখলের পর হুতিরা থামেনি। শুক্রবার ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, হুতি বাহিনী পেরিম দ্বীপ দখল করেছে। মাইয়ুন নামে পরিচিত এই ছোট দ্বীপটি বাব আল-মানদেব প্রণালির ঠিক ভেতরে অবস্থিত, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জবাবে সৌদি আরব মোখা বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে।
পেরিম দ্বীপ দখলের মাধ্যমে কৌশলগত পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। বাব আল-মানদেব হলো লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যকার সরু প্রবেশপথ, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। আরব উপদ্বীপের অন্য প্রান্তে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে জ্বালানি তেল রপ্তানির জন্য সৌদি আরব ক্রমশ লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
হুতিরা জোর দিয়ে বলছে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রয়েছে এবং তাদের অবরোধ নির্দিষ্টভাবে সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে কার্যকর হচ্ছে। কিন্তু ওই অঞ্চলে হুতিদের অগ্রগতি গোষ্ঠীটিকে এমন এক শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে, যেখান থেকে তারা চাইলে ওই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য আরও বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে। ঠিক এই বিষয়টিই রিয়াদের মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, ২০২২ সাল থেকে যে সংঘাতটি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল, তা হঠাৎ করে বিশ্বের কৌশলগতভাবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ছড়িয়ে পড়েছে।