মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক যুবককে হাতুড়ি দিয়ে বেদম মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর চালান স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের শ্রীবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত যুবকের নাম মাসুম মিয়া (৩০)। তিনি ওই এলাকার মৃত সন্তোষ মিয়ার ছেলে এবং পেশায় দিনমজুর।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাশের শিবালয় উপজেলার এক ব্যক্তির অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাসুম মিয়া ও প্রতিবেশী রানা মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মাসুম মিয়া রানা মিয়ার বিরুদ্ধে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেন। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে বাড়ির সামনে একা ছিলেন মাসুম। এ সুযোগে রানা মিয়া, তার ভাই রনি মিয়া ও মো. রায়হান তাকে আক্রমণ করে। একপর্যায়ে মাসুমের গলায় গামছা পেঁচিয়ে হাতুড়ি দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মাসুমের মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন ব্যক্তি রানা মিয়া ও রনি মিয়ার বাড়িতে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বড়টিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মজনু মিয়া বলেন, "হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। ব্যাটারি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হামলা হলেও এর পেছনে অন্য কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।"

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রানা মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, "হামলার ঘটনায় রানা মিয়া, তার মা, বাবা ও বোনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"