বান্দরবানের আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের সাধু হেডম্যান পাড়ায় বসবাসকারী ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সন্ধিতা ত্রিপুরা। জুমচাষী বাবা ও গৃহিণী মায়ের সীমিত আয়ের সংসারে চার ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া এই কিশোরীর জীবন সংগ্রাম প্রতিকূলতাকে হার মানিয়েছে। অভাব নিত্যসঙ্গী হলেও তার চোখে রয়েছে এক স্বপ্ন—বড় হয়ে আদর্শ শিক্ষক হওয়া।

বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি এবং মেধার স্বাক্ষর রাখা সন্ধিতা বিশ্বাস করেন, শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত জীবনই বদলায় না, বরং সমাজ ও গ্রামের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তার পথচলা সহজ ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট পরিচালিত ‘কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালা’ তার জীবনে আশার আলো হয়ে উঠেছে। বিনা বেতনে সেখানে পড়ার সুযোগ পাওয়ার পর থেকে তার পরিবারের দুশ্চিন্তা কমেছে এবং শিক্ষার পথ আরও সুগম হয়েছে।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সন্ধিতা জানান, সে বড় হয়ে নিজের গ্রামের গরিব ও অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে চায়, যেন অর্থের অভাবে আর কোনো শিশুর পড়াশোমা থমকে না যায়। সন্ধিতার এই অদম্য পথচলা প্রমাণ করে যে, দারিদ্র্য মানুষের পথকে কঠিন করতে পারে, কিন্তু স্বপ্নকে আটকাতে পারে না। সুযোগ, পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি সাধারণ শিশুও হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের আলোকবর্তিকা।