জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি ঘটেছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, খুন, ছিনতাই ও অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পূর্ণ শক্তিতে কাজ করার উপযোগী করা হচ্ছে। জনগণের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান। গাইবান্ধা-৫ আসনের মো. আবদুল ওয়ারেছের প্রশ্নের জবাবে তিনি বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে ৬ হাজার ২৮৬ জনকে চাকরিচ্যুত এবং ২ হাজার ৫১০ জনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং কোনো নিরপরাধ সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি জানান, চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই। হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদেরও পুনর্বহালের সুযোগ নেই।
ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরকে সিসিটিভি মনিটরিং সিস্টেমের আওতায় আনতে ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং ইন ডিএমপি’ শীর্ষক প্রকল্পটি এডিপির অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটির ডিপিপি পুনর্গঠন চলমান আছে। একনেকে অনুমোদিত হলে সমগ্র ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সিসিটিভি মনিটরিং সিস্টেমের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
সংরক্ষিত আসনের সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে (১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬) সারা দেশে ৬০ হাজার ৫৯৮টি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৮ হাজার ৪০টি মামলা দায়ের এবং ১৮ হাজার ৮৫৮ জন মাদক চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
রাজশাহী–৪ আসনের আবদুল বারী সরদারের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিআরটিএর তথ্যমতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ৮২৯টি ডাবল ডেকার বাসের বৈধ অনুমতি রয়েছে। তবে কিছু অসাধু বাসমালিক ডাবল ডেকার বাসের বডির ধরন পরিবর্তন করে সেগুলোকে স্লিপার বাস হিসেবে রূপান্তর করে মহাসড়কে চালাচ্ছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বেশ কিছু ডাবল ডেকারের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংরক্ষিত আসনের শামছুন্নাহার বেগমের প্রশ্নের জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, প্রতিবছর গড়ে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি পরিবার ও ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নদীভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের মো. জালাল উদ্দীনের প্রশ্নের জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে মোট শ্রমশক্তি ৭১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত ৬৯ দশমিক শূন্য ৯ মিলিয়ন এবং বেকার ২ দশমিক ৬২ মিলিয়ন; বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। প্রতিবছর গড়ে ১৩ দশমিক ৬ লাখ মানুষ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছেন বলে তিনি জানান।