মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরে ঐতিহ্যবাহী সরকারি আরএসকেএইচ ইনস্টিটিউশন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আশপাশে ময়লা-আবর্জনার জমাট বেঁধে পড়া অবস্থা চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। এতে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।

সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ পাশজুড়ে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরেও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য জমেছে। একইভাবে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনের রাস্তার পাশেও ময়লার বিশাল স্তূপ দেখা গেছে।

স্থানীয় বাজার ও আশপাশের দোকানপাট থেকে আসা মাছ, মাংস, তরি-তরকারি ও আখের উচ্ছিষ্টসহ গৃহস্থালি বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যত্রতত্র তা ফেলা হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং শিক্ষার্থী, পথচারী ও উপজেলা ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এলাকাবাসী জানান, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এভাবে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকা কাম্য নয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা মহম্মদপুর উপজেলা সদরে আধুনিক ও পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ. কে. এম নাসিরুল ইসলাম বলেন, "যে পুকুরটিতে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে, সেটি বিরোধপূর্ণ এবং আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এরপরও বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার চেষ্টা করেছি। তবে স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় এবং বাজারের বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে আবারও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।"

মহম্মদপুর বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধি আক্তারুজ্জামান বিল্লাহ বলেন, "একটি নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনই পারে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে। পরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা গেলে দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।"

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, "বিষয়টি জানতে পেরেছি। দ্রুতই একটি জায়গা নির্ধারণ করে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে। তবে পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকেও সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।"