ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জাতীয় সংসদে বিরোধী মতামত প্রকাশের পরিবেশ অনুপস্থিত থাকায় এবং তার প্রতি সহকর্মীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে, যা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সংসদীয় রীতিবিরোধী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬-এর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, "সংসদে কথা বলার পর যে আচরণ লক্ষ করা গেছে, তা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না। বক্তব্যে ভিন্নমত বা কাউন্টার দিতে চাইলে তা নির্ধারিত নিয়ম মেনে দেওয়া যেত, কিন্তু আমার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই সহকর্মীদের কাছ থেকে অসংলগ্ন ও অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে।"
অতীতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি জানান, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি সদস্য হিসেবে একা দাঁড়িয়ে কথা বলার সময়ও একই ধরনের জঘন্য পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। এরপর কয়েক হাজার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে সংসদে ফিরলেও যদি ন্যূনতম পরিবর্তন না ঘটে, তবে বিরোধী দল হিসেবে শুধু ‘না’ ভোট দিয়ে কাজ নেই বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, "একটা সংসদে সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন মত থাকতে পারে এবং সেই কথা প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতাও থাকা উচিত।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, "আমি কথা বলার পর যদি কাউন্টার বলার ব্যাপার থাকত, সেটা দাঁড়িয়ে বলা যেত। আমি বক্তব্য শেষ করার পর বক্তব্য দেওয়া যেত। এই মহান সংসদে আমার আশপাশের সংসদ সদস্যরা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও সংসদীয় সৌজন্যবহির্ভূত।"
এছাড়া রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের সব রাজনৈতিক দল এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিতর্কিত র্যাব বিলুপ্তির দাবি তুলেছিল। র্যাবের স্থলাভিষিক্ত করে নতুন যে সংস্থাই তৈরি করা হোক না কেন, তা যেন কেবল পোশাক বা নাম পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-সহ দেশের যেকোনো বাহিনীর বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে এই সংসদ সদস্য বলেন, অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নানা কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা, নির্যাতন ও ভীতিগ্রস্ত হতে দেখা গেছে। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনীর কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বাংলাদেশ বর্তমানে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে উল্লেখ করে এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আশা প্রকাশ করেন যে সংসদে উপস্থিত প্রতিটি রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ, র্যাব বা যেকোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী যেন কোনো নির্দিষ্ট দলের অধীনে না থেকে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। সব বাহিনী যাতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও দলীয়করণমুক্ত হয়ে স্বকীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন রুমিন ফারহানা।