খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক ও ছড়াকার আমীরুল ইসলাম (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) পরলোকগমন করেছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।

আমীরুল ইসলামের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার বড় ভাই কামাল আহমেদ এবং ‘ছোটদের সময়’ সম্পাদক শিশুসাহিত্যিক মামুন সারওয়ার। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর বেলা ১টা ৩০ মিনিটে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং দুপুর ২টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। সকল অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মায়ের কবরে তাকে সমাহিত করা হবে।

১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। তার বাবা প্রয়াত সাংবাদিক সাইফুর রহমান এবং মা আনজিরা খাতুন। খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক হাবীবুর রহমান ছিলেন তার বড় চাচা। শৈশবে পরিবারে তার ডাকনাম ছিল ‘টুলু’। কৌতুকপ্রিয়, আড্ডাবাজ ও ভ্রমণপিয়াসী এই সাহিত্যিক বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেরিয়েছেন।

বাংলা শিশুসাহিত্যের অনন্য রূপকার হিসেবে পরিচিত আমীরুল ইসলাম দুই শতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা। যাদুকরী ছন্দ ও স্বাতন্ত্র্যসূচক লেখনী দিয়ে তিনি কয়েক প্রজন্মের পাঠকের হৃদয় জয় করেছেন। আমৃত্যু তিনি চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিশুসাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া দেশে-বিদেশে নানা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তার প্রয়াণে শিল্প, সাহিত্য ও গণমাধ্যম অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।