সম্প্রতি ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয়ধারী একটি দল তাঁকে হেনস্তা করে। এই ঘটনা দেশবাসীকে যেমন ক্ষুব্ধ করেছে, তেমনি বিদেশে থাকা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

২০২৪ সালে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও প্রাণহানির বিরুদ্ধে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমেছিলেন। শিল্পীরাও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে এই সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় গত দেড় বছরে বিভিন্ন অন্যায়-অবিচারের সময় তিনি গণতন্ত্র ও জনগণের পক্ষে তাঁর অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন।

রাজনৈতিক অবস্থানের বিরোধিতা করা সাধারণত স্বাভাবিক হলেও, শারীরিক আক্রমণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। বাঁধনের ওপর এই হামলা প্রমাণ করছে, আওয়ামী লীগের অনেক কর্মী-সমর্থক এখনো ২০২৪ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য অনুশোচনাহীন। ঘটনাস্থলে থাকা পরিজনের কোলের শিশুর সুরক্ষার তোয়াক্কা না করে তাঁর ওপর এমন উন্মত্ত আক্রমণ কোনো সুস্থ আচরণের পরিচয় দেয় না।

তবে প্রবাসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের এই আক্রমণ কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হয় না। গত দেড় বছরে অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা কয়েকজন নেতাও বিভিন্ন সময়ে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নারীদেরও ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব নাগরিকের নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিসরের জন্যও অশুভ সংকেত বহন করছে। পাশাপাশি, একের পর এক এ ধরনের ঘটনা সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাঁধন সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে যাননি, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে গেছেন। তাঁর ওপর হামলা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে এবং ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসীদের ব্যাপারে সেখানে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারে।

এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। বাঁধন সেখানে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়েছেন, তাই পরিবারসমেত তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেতে পারে। বিদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও সচেষ্ট হতে হবে। যারা আক্রমণ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসকে উদ্যোগী হতে হবে। হামলার পর বাঁধন তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আমাকে দমানো এত সহজ নয়।’ যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই সাহসিকতা ছড়িয়ে পড়ুক।