ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ আসর চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে গতকাল রাতে। এই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি এবং বরুসিয়া ডর্টমুন্ড জয়লাভ করে। গোল পেয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হলান্ড। এই সাফল্যের পরিসংখ্যানেও পরিবর্তন এসেছে।
রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে ইউরোপীয় ক্লাব আসরের ইতিহাসে যৌথভাবে পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ৯৯ ম্যাচে তিনি ৭১টি গোল করেছেন। এর আগে ১৪২ ম্যাচে ৭১ গোল করে একাই এই স্থান দখলে রাখেন রিয়ালের সাবেক তারকা রাউল গঞ্জালেস। এই প্রতিযোগিতায় শীর্ষ চার গোলদাতা হলেন—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (১৪০), লিওনেল মেসি (১২৯), রবার্ট লেভানডফস্কি (১০৯) ও করিম বেনজেমা (৯০)।
এদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডের গোল করার হার উল্লেখযোগ্য। ৫৯ ম্যাচ খেলে তিনি এমন গড় তৈরি করেছেন যা অন্তত ১০ গোল করা অন্য কোনো খেলোয়াড়ের নেই। অর্থাৎ, ম্যাচপ্রতি একটি করে গোল করার এই রেকর্ডে তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।
রিয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ারও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। বেলজিয়ামের প্রথম খেলোয়াড় ও চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে অষ্টম গোলকিপার হিসেবে তিনি এই মর্যাদা অর্জন করেছেন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে অভিষেকের পর থেকে আর কোনো গোলকিপার তাঁর মতো বেশি সেভ করতে পারেননি।
ইন্টার মিলানের বিপক্ষে গতকাল রাতের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বল ‘রিকভারি’ বা প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ার বিষয়ে নতুন রেকর্ড করেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে এক ম্যাচে ব্রাজিল তারকার এটাই সর্বোচ্চ বল রিকভারি। এই প্রতিযোগিতায় এক ম্যাচে ন্যূনতম ৯বার বল রিকভারির তালিকায় গত ২০ বছরে রিয়ালের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ভিনিসিয়ুসের নাম যুক্ত হয়েছে। এর আগে হিগুয়েইন ১২ বার (২০০৮, রোমা) এবং রবিনিও ৯ বার (২০০৮, রোমা) এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।
২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রতিপক্ষ দলের গোলকিপারদের মোট ৩০টি ভুল থেকে রিয়াল গোল পেয়েছে। এই তালিকায় আর্সেনাল ১৫টি গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে জোড়া গোলের সঙ্গে আত্মঘাতী গোলও করেছেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের স্ট্রাইকার সেরহু গিরেসি। এর আগে এক ম্যাচে ১৬ বার গোল করার সঙ্গে আত্মঘাতী গোল দেখা গেলেও, জোড়া গোলের সঙ্গে আত্মঘাতী গোল এই প্রথম ঘটনা।
বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ভিয়ারিয়াল স্ট্রাইকার সান্তিয়াগো মৌরিনিওর গোলটি চ্যাম্পিয়নস লিগে উরুগুয়ের খেলোয়াড়দের ১৫০তম গোল হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তবে টুর্নামেন্টে এটি মৌরিনিওর প্রথম গোল। ১৯৯৬ সালের ২০ অক্টোবর চ্যাম্পিয়নস লিগে উরুগুয়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথম গোলটি করেন জুভেন্টাসের পাওলো মন্তেরো।