খুলনার পাইকগাছায় জমি ও মাছের ঘেরের ইজারা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এশার নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে একই পরিবারের তিনজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে চাঁদখালী ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে শহীদ দর্জির বাড়ির সামনে এই হামলা চালানো হয়। এতে ইবাদুল হক (৫২), তার ভাই বক্তিয়ার রহমান এবং ছেলে সাকিবুল হাসান আহত হয়েছেন।

আহত ইবাদুল হক ওই গ্রামের মৃত সহিল উদ্দিন গাজীর ছেলে। স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় বাপ্পি, হাবিল গাজী, বাবু সানা ও রাসেল বাঁশ, কাঠ ও স্ল্যাব দিয়ে তাদের ওপর হামলা করেন। এই হামলায় সাকিবুলের কান ও মাথায় এবং ইবাদুলের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে ইবাদুলের শারীরিক অবস্থাকে 'হেড ইনজুরি ফলোয়িং হিস্ট্রি অব ফিজিক্যাল অ্যাসল্ট' উল্লেখ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কেএমসিএইচ) রেফার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। এছাড়া সাকিবুলের কানে সেলাই দিতে হয়েছে বলেও তারা জানান।

ইবাদুলের বড় ভাই বক্তিয়ার রহমান জানান, প্রায় দেড় বিঘা জমি ও মাছের ঘেরের ইজারার টাকা নিয়ে চার বছর ধরে ওই পক্ষের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছে। তাদের দাবি, নিজেদের জমিতে অন্য পক্ষ ঘের করলেও পাওনা বা আয় নিয়মিত দিচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করেও এই বিরোধ মেটানো সম্ভব হয়নি।

বক্তিয়ার রহমান আরও জানান, ঘটনার দিন এক রাজনৈতিক নেতার মধ্যস্থতায় শালিসে তাদের ডাকা হয়। তবে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় বৈঠকটি বাতিল হয়। সেখান থেকে ফিরে এশার নামাজে যাওয়ার পথে নির্মাণাধীন মসজিদের সেন্টারিংয়ের বাঁশ, কাঠ ও স্ল্যাব দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছিল।

চিকিৎসার ব্যস্ততার কারণে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানান বক্তিয়ার রহমান। তবে তারা আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির বলেন, "ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নিয়েছে।"