ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের রাতে বাইরে থাকার বিষয়ে প্রক্টরের দৃষ্টিভঙ্গিকে কেন্দ্র করে এখন চলছে তীব্র সমালোচনা।
প্রক্টর সাহেব সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, রাতে মেয়েদের বাইরে থাকার প্রয়োজন নেই। তিনি উদাহরণ দিয়ে জানান, তার নিজের বাড়ির মেয়েরাও রাত ১০টার মধ্যেই ঘরে ফিরে আসে। তার মতে, ছেলেদের সাথে মেয়েদের তুলনা চলে না। ছেলেরা রাতে রাস্তায় হাঁটবে, বাইক চালাবে কিংবা আড্ডা দেবে—তাতে সমস্যা নেই, কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন।
এই মন্তব্যের পর এক শ্রেণির মানুষ প্রক্টরের এই রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তবে ব্যঙ্গাত্মক সুরে অনেকে বলছেন, প্রক্টর সাহেব আসলে মেয়েদের ভালোই চান। রাত ১০টার পর বাইরে থাকলে কুকুর কামড়ানোর ভয় থাকে, তাই তিনি নিরাপদ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
সমালোচকরা মনে করছেন, রাস্তা বা ক্যাম্পাস নিরাপদ করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ঘরে আটকে রাখাই এখন সহজ সমাধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। হলের তালা ভোরের আলো না দেখলে খোলে না, সেই বাস্তবতাকে মনে করিয়ে দিয়ে বলা হচ্ছে, খাঁচায় আটকে রাখলেই তথাকথিত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
তবে মজার বিষয় হলো, যখন দেশের স্বার্থে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়, তখন সেই তালা ভেঙে বেরিয়ে পড়তে হয় নারী শিক্ষার্থীদের। তখন আবার তথাকথিত 'ভালো মানুষরাই' তাদের সাহসের প্রশংসা করে হাততালি দেন।
এই পরিস্থিতির সমাধানে বিদ্রুপ করে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা একটি 'মহিলা শাখা' খোলা হোক। যেখানে উঁচু দেয়াল আর গেটে তালা থাকবে এবং নারী শিক্ষার্থীরা সেখানে বদ্ধ বাগানের প্রজাপতির মতো নিরাপদ থাকবে। প্রক্টরের এই চিন্তাধারাকে 'মহৎ' বলে অভিহিত করে বলা হয়েছে, আগুন নেভানো সম্ভব না হলে আগুনের কাছ থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।