চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের নদীয়া জেলার হালদারপাড়া এলাকা থেকে ১১ কেজির বেশি ওজনের ৮৯টি স্বর্ণের বারসহ মো. খবির (৪৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বিএসএফের ৩২ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার হালদারপাড়া বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক মো. খবির চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তবর্তী কামারপাড়া গ্রামের মো. এসোনের ছেলে।

জব্দ করা ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের বারগুলোর মোট ওজন ১১ কেজি ২৮১ দশমিক ৭৭০ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা (১৭ কোটি ৪০ লাখ ২১ হাজার ৩০২ ভারতীয় রুপি)।

বিএসএফ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশের পর খবিরকে বিএসএফ সদস্যরা আটক করেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৮৯টি সোনার বিস্কুট (বার) উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষার পর উদ্ধার করা স্বর্ণ ২৪ ক্যারেটের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত পার হওয়ার সময় খবিরের সঙ্গে আরও তিন যুবক ছিলেন। খবির বিএসএফের হাতে ধরা পড়লেও বাকি তিনজন বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তবে পাচারে তাদের সম্পৃক্ততা বা পালিয়ে আসার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আটক খবিরের স্ত্রী শামসুন্নাহার দাবি করেন, তার স্বামী পেশায় দিনমজুর। বিজিবি সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে আটকের খবর জানানোর আগে তিনি কিছুই জানতেন না। তার স্বামী কীভাবে সেখানে গেলেন বা স্বর্ণ পাচারে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে তাঁর পরিবার কিছুই জানে না।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সীমান্ত অতিক্রম করে এক বাংলাদেশি বিএসএফের হাতে স্বর্ণসহ আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ভারতের বিএসএফ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও বিস্তারিত তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়া চলছে।